✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১২, | ১২:০৭:৩৮ |

২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় যেমন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছিল, তেমন পরিস্থিতির দিকে আবারও বিশ্ব এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। 

সংস্থাটির মতে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে বড় চাপ তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রস্পেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাতে বাধ্য হয়েছে বিশ্বব্যাংক। আগে যেখানে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, এখন তা কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক দেশকে বাড়তি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলেছে।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। কিন্তু ইরানের অবরোধের কারণে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে মাত্র ৫ থেকে ৭টিতে দাঁড়িয়েছে।

এর ফলে, শত শত জাহাজ প্রণালির বাইরে আটকে রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি।

শুধু জ্বালানি নয়, এই সংকটের প্রভাব পড়ছে সারের বাজারেও। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় সারের দাম বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের দামে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি জ্বালানি ও সারের বাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তাহলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতি সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল করোনা মহামারির সময়।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত সংঘাত নিরসন না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব উন্নত ও উন্নয়নশীল- সব দেশের ওপরই পড়বে।

সূত্র : আলজাজিরা। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..