সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

কুরবানি সামনে রেখে বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২০, | ১৮:১৩:২৬ |
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র সাত দিন বাকি। কুরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য ধারালো দা-বঁটি-ছুরির চাহিদা এখন তুঙ্গে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কামারের দোকানগুলোতে চলছে কর্মব্যস্ততা।  

উপজেলার কামারহাট, রামগঞ্জ, সোনাপুর, পানিওয়ালা ও গাজীপুর বাজারসহ সব হাটবাজারে কামাররা দিনরাত হাতুড়ি পেটাচ্ছেন। লোহা পোড়ানোর গন্ধ আর হাতুড়ির ঠনঠন শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

কামারহাট বাজারের কামার উত্তম কুমার জানান, সারা বছরের তুলায় ঈদুল আজহার আগের দুই-তিন সপ্তাহ আমাদের জন্য সোনালি সময়। এ সময় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ক্রেতাদের ভিড় এতটাই বেশি যে, অর্ডার নিতে নিতেই দিন শেষ হয়ে যায়। 

সোনাপুর বাজারের প্রবীণ কামার রাজীব বলেন, ঈদের আগের এই কয়েকটা দিনই আমাদের মূল উপার্জনের সময়। নতুন দা-বঁটি তৈরি করছি, পুরোনোগুলো শান দিচ্ছি। কাজের এতো চাপ যে, খাওয়ার সময়টুকুও পাই না।

এ বছর কামারদের দোকানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কুরবানির ছুরি, দা ও বঁটির। পাশাপাশি হাড় ভাঙার কাজে ব্যবহৃত চাপাতি ও কুড়ালও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়ার কাজও চলছে সমান তালে। 

পানিওয়ালা বাজারের কামার বিপুল মিয়া বলেন- লোহার দাম, কয়লার দাম সব বেড়েছে; তবু ঈদের আনন্দে মানুষ কিনছেন। আমাদেরও ভালো লাগছে। এ বছর বেচা-বিক্রি ভালোই চলছে। শহরে স্টিলের ছুরি-চাকু আসলেও গ্রামাঞ্চলে এখনো লোহার তৈরি দেশীয় দা-বঁটির চাহিদা কমেনি। মানুষের বিশ্বাস, হাতে তৈরি লোহার অস্ত্র বেশি টেকসই এবং ধার বেশিক্ষণ টেকে।

রামগঞ্জ বাজারে কুরবানির দা কিনতে আসা আবদুল করিম বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে এখান থেকেই দা কিনি। দেশীয় কারিগরের হাতের কাজ অনেক ভালো। দাম একটু বেশি হলেও মান ভালো।  

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রামগঞ্জ উপজেলায় কুরবানির পশুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, কামারদের ব্যস্ততাও আগামি কয়েকদিন আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

তবে উৎসবের এ ব্যস্ততায় কিছু সমস্যাও রয়েছে বলে জানান কামাররা। কাজ প্রচুর, কিন্তু কামারির কাজে আগ্রহী শ্রমিক পাওয়া কঠিন। নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আসতে চাইছে না, এটা চিন্তার বিষয়। 

কামাররা সরকারের কাছে এ ঐতিহ্যবাহী পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..