সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

যশোরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১,১৭,৯৯৭ পশু, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৭, | ১৫:০৩:৪২ |

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গতবারের মতো এবারও যশোরে চাহিদার তুলনায় বেশি গরু প্রস্তুত করেছেন জেলার খামারিরা।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার সাড়ে ১৩ হাজার ছোট-বড় খামারি ও কৃষকরা মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭টি পশু কোরবানির হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তবে জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ১৪ হাজার ৮৬৯টি পশু বেশি আছে। গত কোরবানির ঈদে যশোরে চাহিদার তুলনায় ১৯ হাজার পশু বেশি ছিল।

এবার জেলার ৮ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৪৪টি ষাঁড়, ৯৫৭টি বলদ, ৬ হাজার ৪৫৮টি গাভী, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল এবং ৪৪২টি ভেড়া রয়েছে।

চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করায় হাটে গরু ও ছাগলের দাম বেশ কিছুটা কমে গেছে। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও দুশ্চিন্তায় আছেন খামারি ও কৃষকরা।

যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের শাহাবাটি গ্রামের খামারি আব্দুর রউফ তার খামারে এবার ৩৬টি উন্নত জাতের ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। এসব ষাঁড়ের প্রতিটির ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ কেজির মধ্যে। সবুজ ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভুসি খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে এসব গরু মোটাতাজা করেছেন তিনি।

আব্দুর রউফ বলেন, ‘গত বছর কোরবানির ঈদের আগে শেষ সময়ে হাটে ক্রেতা কম ছিল। ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি করতে হয়েছিল। তাতে লোকসান হয়। এবার ভালো দাম পাব কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

একই উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলাম এবার ২০টি গরু কোরবানির হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তিনিও বলেন, গত বছর অনেক গরু অবিক্রিত ছিল, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করেছেন। ছোট খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাননি।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে পশুখাদ্য খড়, ভুসি, ভুট্টা ও ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে পশুখাদ্য হিসেবে শুধুমাত্র দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর না করতে। দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তবে এটাও ঠিক, দেশে সেইরকম বিস্তীর্ণ চারণভূমি নেই। ফলে ঘাস খাওয়াতেও তা উৎপাদন করে খাওয়াতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সব খামারি কোরবানির ঈদ লক্ষ্য করে পশু লালন-পালন করেন। ফলে একই সময়ে অনেক পশু হাটে ওঠে এবং দাম কমে যায়। বছরে আরও অনেক উৎসব রয়েছে সেসব সময় লক্ষ্য করেও গবাদি পশু লালন-পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এবার জেলার কোরবানির হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানান তিনি। প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি টিম কাজ করবে এবং কোনো অসুস্থ পশু, পেটে বাচ্চা থাকা গাভী বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজা করা পশু যাতে বিক্রি না হয়, তা তদারকি করা হবে।

কোরবানির হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন, সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..