সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

১২৮ মেয়ের সম্মান বাঁচিয়েছিলেন, কেন সেই ঘটনার কথা আজও বলেননি সুনীল?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৪, | ২১:০৩:০৬ |
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা সুনীল শেঠিকে সিনেমায় হিরো হিসেবে বহুবার দেখা গেছে। কিন্তু বাস্তব জীবনেও তিনি যে হিরো, তা এখন মানুষ ভুলতে পারেননি। অনেক তারকাই আছেন, যারা বাস্তব জীবনেও এমন কাজ করেন যে, তাদের রিয়েল লাইফ হিরো বলা হয়। এমন একজন অভিনেতাই হলেন সুনীল শেঠি। যে কিনা মানব পাচার থেকে ১২৮ নারীকে বাঁচিয়েছিলেন। 

সুনীল শেঠি ১৯৯৬ সালে এমন কিছু করেছিলেন, যার জন্য আজও তার সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়। কী ঘটে ছিল সেদিন? দুর্ঘটনাটি ১৯৯৬ সালে ঘটেছিল। বলা হয় যে এ ঘটনা আজও গোপন থাকত, যদি চারিমায়া তামাং সুনীল শেঠির সাহসিকতার প্রশংসা না করতেন। 



চারিমায়া তামাং হচ্ছেন নেপালের একজন অসামান্য নারী অধিকার কর্মী এবং মানব পাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি নিজে পাচারের শিকার হয়েও যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা তাকে আধুনিক দিনের দাসত্ববিরোধী আন্দোলনের এক আইকনিক হিসেবে পরিণত করেছে। 'দ্য ফরগটেন ওয়ানস: হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইন নেপাল'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন ‘যখন সরকার এই অপারেশনটি কীভাবে করতে হবে তা নিয়ে দ্বিধায় ছিল, তখন ভারতীয় চলচ্চিত্রের হিরো সুনীল শেঠি আমাদের সমর্থন করেছিলেন।’

১৯৯৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বাই পুলিশ কামাঠিপুরার রেডলাইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ থেকে ৩০ বছর বয়সি ট্র্যাফিকিংয়ের শিকার ৪৫৬ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার করা ৪৫৬ নারীর মধ্যে ১২৮ জন নেপালের ছিলেন। এখন যেহেতু এই নারীদের বেশিরভাগের কাছে নাগরিকত্বের কোনো প্রমাণ ছিল না, তাই নেপাল সরকারও তাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। সুনীল সবার ফ্লাইটের টিকিট বুক করে দেন। 

এমন একসময়ে যখন সবাই নারীদের নিরাপদে কাঠমান্ডু ফেরত পাঠানোর উপায় খুঁজছিল, তখন সুনীল শেঠি সেই খবর জানতে পারেন। তিনি পরিস্থিতি নিজের হাতে নেন, একটি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেন এবং ১২৮ নারীর টিকিটের ব্যবস্থা করেন। তবে শেঠি পুলিশকে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছিলেন। 

অভিনেতা বলেছিলেন, আমরা এ বিষয়টি থেকে মিডিয়াকে দূরে রেখেছিলাম। কারণ আমরা নিজেদের প্রশংসা করতে চাইনি। আমরা মেয়েদের ঝুঁকিতে ফেলতে চাইনি।

পরবর্তী সময়ে সুনীল শেঠি কেন এ বিষয়ে কথা বলেননি, তা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে কীভাবে তিনি মেয়েদের উদ্ধার করেছিলেন। 

এ বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেছিলেন যে, তিনি এবং তার শাশুড়ি ট্র্যাফিকিং ইন ইন্ডিয়া নামে একটি এনজিওতে কাজ করতেন, কিন্তু পরে এটির নাম হয় বিপলা ফাউন্ডেশন। তার শাশুড়ি এবং আরও কিছু এনজিও একসঙ্গে এসে মেয়েদের উদ্ধার করে।

সুনীল আরও জানিয়েছিলেন যে, তিনি এ বিষয়ে কখনো কথা বলেননি। কারণ এ বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রী এবং তারপর পুলিশ কমিশনার ছাড়াও সর্বোচ্চ স্তরের গোপনীয় দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সুনীল শেঠিকে শেষ দেখা গেছে 'কেসরি বীর' সিনেমায়, যা ২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এরপর তিনি 'বর্ডার ২'-এ একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এখন তাকে 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'সিনেমায় দেখা যাবে, যেখানে সুনীল শেঠি ছাড়াও অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, জ্যাকি শ্রফ, পরেশ রাওয়াল, আরশাদ ওয়ারসি, জনি লিভার, রাভিনা ট্যান্ডন, দিশা পাটানি, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ প্রমুখ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..