✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

বিজয়ের উত্থানের অবিশ্বাস্য গল্প

মাত্র ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক থেকে মুখ্যমন্ত্রী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১০, | ১৩:২৮:২৩ |
দীর্ঘ কয়েকদিনের টানটান রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর অবশেষে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়। আজ রবিবার সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেন।

শুরুতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে জোট সমর্থন নিশ্চিত করে সেই বাধা কাটিয়ে ওঠেন বিজয়। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। নির্বাচনে তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম পায় ১০৮টি আসন। পরে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই এম, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগসহ কয়েকটি দলের সমর্থন নিয়ে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০-এ।

সরকার গঠনের আগে টানা কয়েকদিন ধরে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন বিজয়। সমর্থনপত্র যাচাই শেষে গভর্নর তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হলে শপথের অনুমতি দেন। এমনকি আমন্ত্রণপত্র হাতে পেতে তাকে রাজভবনে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এই সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৬০ বছর পর ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দল সরকার গঠন করল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা।

বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানও ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। চলচ্চিত্র জগতের সুপারস্টার হিসেবে দীর্ঘদিন জনপ্রিয় থাকার পর ধীরে ধীরে ফ্যান ক্লাব ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি। সেই সংগঠনই পরে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়।

তার ব্যক্তিগত জীবনও নাটকীয়। শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র ৫০০ রুপি পারিশ্রমিক পাওয়া বিজয় পরবর্তীতে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শীর্ষ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকায় পরিণত হন। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে সিনেমা ছেড়ে রাজনীতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তই তাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

এদিকে তার মন্ত্রিসভায় কেএ সেনগোত্তাইয়ান, আধব অর্জুন, নির্মল কুমার, আনন্দ, রাজ মোহন, টিকে প্রভুসহ বিভিন্ন পেশা ও পটভূমির নেতারা জায়গা পেয়েছেন। সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হিসেবে রয়েছেন কীর্তন।

সব মিলিয়ে জনপ্রিয়তা, সংগঠন এবং কৌশল—এই তিনের সমন্বয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন থালাপতি বিজয়। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই সমর্থন ধরে রেখে কার্যকর সরকার পরিচালনা করা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..