✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০৩, | ১৮:০১:৫৫ |ফুটবলীয় রোমান্টিকতায় ঘেরা মেক্সিকোর বিশ্বকাপ যাত্রা যেন একই বৃত্তে বন্দী। প্রজন্ম বদলায়, ডাগআউটে নতুন মাস্টারমাইন্ড আসেন, কিন্তু মূল সুরটা সেই একই রয়ে যায়—এবার হয়তো ভিন্ন কিছু হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাক্কালে সেই চিরচেনা প্রত্যাশা এখন হিমালয়সম চাপে রূপ নিয়েছে। কারণ এবার সামনে কোনো অজুহাত নেই। প্রথম দেশ হিসেবে তারা তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজনের কীর্তি গড়তে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাঠের ফুটবলে তারা সেই প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকাতে পারবে তো?
শেষবার ঘরের মাঠে আয়োজিত ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল মেক্সিকো। কাকতালীয়ভাবে, সেই দলের অন্যতম সদস্য হাভিয়ের আগুইরে এখন তৃতীয়বারের মতো জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে। আগুইরের কাজ এখন শুধু দলকে জেতানো নয়, বরং গত কয়েক বছরের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে মেক্সিকান ফুটবলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করা। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর মেক্সিকো যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, সেখান থেকে দলকে টেনে তুলছেন তিনি। গত মার্চে নেশনস লিগ জয় এবং জুনে গোল্ডকাপের শিরোপা মেক্সিকান সমর্থকদের মনে নতুন আশার বীজ বুনেছে। ২০২৬ সালের শুরুটাও তারা করেছে দুর্দান্তভাবে, যেখানে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে ‘এল ত্রি’রা।
গোলপোস্টের নিচে থাকা গিয়েরমো ওচোয়া ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে অবসর নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছেন। রক্ষণে সিজার মন্টেস ও হোহান ভাসকেসের মতো পরীক্ষিত নাম থাকলেও মাঝমাঠে অধিনায়ক এদসন আলভারেসই দলের ভরসা। তবে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা আক্রমণভাগ নিয়ে। সান্তিয়াগো হিমেনেস ও রাউল হিমেনেসদের ফর্মের অধারাবাহিকতা অনেক সময়ই মেক্সিকোকে ভোগায়।
মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় শত্রু তাদের নিজেদের ইতিহাস এবং শেষ ষোলোর অভিশাপ। ১৯৯৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠলেও কোয়ার্টার ফাইনালের মুখ দেখেনি তারা। এই মনস্তাত্ত্বিক বোঝা মেক্সিকান খেলোয়াড়দের কুরে কুরে খায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’তে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তারা ফেবারিট হিসেবেই শুরু করবে।
আগুইরের অভিজ্ঞতা আর রাফায়েল মার্কেসের আধুনিক ফুটবল দর্শনের মিশেলে মেক্সিকো এবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। নিজেদের মাটি, চেনা কন্ডিশন, লজিস্টিক সুবিধা আর গ্যালারির সেই গর্জন—সবকিছুই যেন প্রতিপক্ষের জন্য আগুনের মতো উত্তপ্ত হয়ে অপেক্ষা করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ মেক্সিকোর জন্য শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং তাদের ফুটবলীয় পরিচয়ের এক অগ্নিপরীক্ষা। আসল পরীক্ষা নকআউট পর্বে। যখন স্নায়ুর চাপ আকাশচুম্বী হবে এবং প্রতিপক্ষ হবে ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকার কোনো পরাশক্তি, তখন মেক্সিকো কি পারবে স্থির থাকতে? পারবে কি পুরোনো অভ্যাস বদলে নতুন ইতিহাস লিখতে? ফুটবলে অভ্যাস পরিবর্তন করাই যে সবচেয়ে কঠিন কাজ।

তৃতীয়বারের মতো মেক্সিকোর হাল ধরেছেন হাভিয়ের আগুইরে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা আগুইরে খুব ভালো করেই জানেন ঘরের মাঠের চাপ ও মাহাত্ম্য। তাঁর অধীনে মেক্সিকো গত মার্চে নেশনস লিগ ও জুনে গোল্ড কাপ জিতেছে। শৃঙ্খলাপরায়ণ ও বাস্তববাদী এই কোচের সঙ্গে সহকারী হিসেবে আছেন কিংবদন্তি রাফায়েল মার্কেস। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ‘শেষ ষোলোর অভিশাপ’ কাটিয়ে ইতিহাস গড়ার মূল কারিগর হিসেবে আগুইরের অভিজ্ঞতাই এখন দলের মূল শক্তি।

২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গোড়ালির চোট। তবে চলতি মাসে এসি মিলানের জার্সিতে তাঁর ফিটনেস পুরোপুরি ফিরে পাওয়া মেক্সিকান শিবিরের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার আক্ষেপ এবার ঘরের মাঠে ঘোচাতে চান সান্তিয়াগো হিমেনেস। অভিজ্ঞ রাউল হিমেনেসের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে মেক্সিকোর আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেবেন এই তরুণ তুর্কি। তাঁর দক্ষতা সমসাময়িক স্ট্রাইকারদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে তাঁকে। বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাকে ক্ষিপ্রতা আর বক্সের ভেতরে পজিশন নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা এল ত্রিদের বড় অস্ত্র।
র্যাঙ্কিং: ১৫
অংশগ্রহণ: ১৮
অঞ্চল: উত্তর আমেরিকা
ডাকনাম: এল ত্রি
সর্বোচ্চ সাফল্য: কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৭০ ও ১৯৮৬)
বিশ্বকাপে মেক্সিকো
ম্যাচ জয় ড্র হার
৬০ ১৭ ১৫ ২৮
গ্রুপ পর্বের ফিকশ্চার
১১ জুন দ. আফ্রিকা মেক্সিকো সিটি রাত ১টা
১৯ জুন দ. কোরিয়া গুয়াদালাহারা সকাল ৭টা
২৫ জুন চেক প্রজাতন্ত্র মেক্সিকো সিটি সকাল ৭টা