সোমালিয়ার উপকূলে আবারও জলদস্যু হামলার ঘটনা বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি কমে যাওয়ায় এই ঝুঁকি নতুন করে বাড়ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব এলাকায় চলমান নিরাপত্তা সংকটে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী ব্যস্ত থাকায় সোমালিয়া উপকূলে টহল কমে গেছে। ফলে জলদস্যুরা সুযোগ নিচ্ছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নেভাল ফোর্স জানায়, এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকে সোমালিয়া উপকূলে কয়েকটি জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ‘অনার ২৫’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজও রয়েছে, যা প্রায় ১৮ হাজার ব্যারেল তেল বহন করছিল। এছাড়া মাছ ধরার জাহাজ ও একটি সিমেন্টবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সতর্ক করে জানিয়েছে, সোমালিয়া উপকূলে হুমকির মাত্রা “উল্লেখযোগ্য” এবং জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের পর ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় অন্যান্য অঞ্চলে নৌ টহল বাড়ানো হলেও সোমালিয়া উপকূলে নজরদারি কমে গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় তেলবাহী জাহাজগুলো এখন জলদস্যুদের কাছে আরও আকর্ষণীয় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০০০-এর দশকের শুরুতে সোমালিয়া উপকূল ছিল বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জলদস্যুতা-প্রবণ এলাকা। পরে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও সেই পুরোনো হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।