✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

ফরজ হজ আদায়ে নারীরা মাহরাম না পেলে কী করবেন?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ১৩:৪৮:৪৬ |
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ—যা একজন মুসলমানের জীবনে গভীর আত্মিক পরিবর্তন আনে। কিন্তু হজ শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট শর্ত ও বিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত দিক রয়েছে, যা জানা ও মানা অত্যন্ত জরুরি। তাই হজ ফরজ হওয়ার শর্ত এবং নারীদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ বিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রত্যেক সচেতন মুসলমানের জন্য প্রয়োজন।

সামর্থ্যবান নারী ও পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। এই ফরজ বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। হজ ফরজ হওয়ার জন্য মূলত পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলো কোনো ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হয়ে যায়। এছাড়া নারীদের জন্য একটি অতিরিক্ত শর্ত রয়েছে। শর্তগুলো হলো—

১. মুসলমান হওয়া

২. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া

৩. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া

৪. স্বাধীন হওয়া

৫. সামর্থ্য থাকা

৬. নারীদের জন্য অতিরিক্ত শর্তটি হলো— মাহরামের উপস্থিতি।

মাহরাম ছাড়া কোনো নারীর জন্য হজের সফরে বের হওয়া শরিয়তসম্মত নয়। অর্থাৎ, মাহরাম ছাড়া নারীর হজে যাওয়া জায়েজ নয়। যদি কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হয়ে যায় কিন্তু তার সঙ্গে যাওয়ার মতো কোনো মাহরাম না থাকে, তাহলে তার জন্য সরাসরি হজে যাওয়া বৈধ হবে না। তবে তিনি চাইলে বদলি হজ (অন্য কাউকে দিয়ে হজ করানো) করাতে পারেন।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন—

لَا تُسَافِرُ امْرَأَةٌ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا وَمَعَهَا أَبُوهَا أَوِ ابْنُهَا أَوْ زَوْجُهَا أَوْ أَخُوهَا أَوْ ذُو مَحْرَمٍ مِنْهَا

‘যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, তার জন্য বাবা, ছেলে, স্বামী, ভাই বা অন্য কোনো মাহরাম ছাড়া তিন দিন বা তার বেশি দূরত্বে সফর করা বৈধ নয়।’ (মুসলিম ৪২৩)

আরেকটি হাদিসে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) নবী কারিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন—

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ، وَلَا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ

‘এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি অমুক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছি, আর আমার স্ত্রী হজে বের হয়ে গেছে। তখন নবীজি (সা.) বললেন—

انْطَلِقْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ

‘তুমি ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ করো।’ (বুখারি ৫২৩৩)

এছাড়া হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত—

لَا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ ثَلَاثًا إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ

‘কোনো নারী মাহরাম ছাড়া তিন দিনের পথ সফর করবে না।’ (বুখারি ১০৮৬)

সুতরাং মাহরাম ছাড়া কোনো নারীর জন্য হজের সফরে বের হওয়া শরিয়তসম্মত নয়। অর্থাৎ, মাহরাম ছাড়া নারীর হজে যাওয়া জায়েজ নয়। যদি কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হয়ে যায় কিন্তু তার সঙ্গে যাওয়ার মতো কোনো মাহরাম না থাকে, তাহলে তার জন্য সরাসরি হজে যাওয়া বৈধ হবে না। তবে তিনি চাইলে বদলি হজ (অন্য কাউকে দিয়ে হজ করানো) করাতে পারেন।

হজ ইসলামের একটি মহান ফরজ ইবাদত, যা আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত ও বিধান মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই হজ ফরজ হলেও নারীদের জন্য মাহরামের শর্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেগ বা ইচ্ছার পাশাপাশি শরিয়তের বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হলো প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়। সঠিক জ্ঞান ও নিয়ম মেনে হজ আদায়ই আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..