✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় কি তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ১৩:৪৭:৩২ |
ইবাদতের ক্ষেত্রে সঠিক সময় ও বিধান জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই জানেন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ বা মাকরুহ। কিন্তু প্রশ্ন আসে— এই সময়গুলোতে অন্যান্য ইবাদত, বিশেষ করে তাওয়াফ করা যাবে কি না? হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি, যাতে তারা সঠিকভাবে ইবাদত আদায় করতে পারেন।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তসহ নামাজের নিষিদ্ধ এবং মাকরুহ সময়গুলোতে তাওয়াফ করা বৈধ। অর্থাৎ, এসব সময় তাওয়াফ করতে কোনো বাধা নেই। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এই সময়গুলোতে তাওয়াফের পর আদায়কৃত দুই রাকাত নামাজ পড়া যাবে না। নামাজের নিষিদ্ধ বা মাকরুহ সময় শেষ হলে পরে সেই দুই রাকাত আদায় করে নিতে হবে।

নামাজের নিষিদ্ধ ও মাকরুহ সময় এড়িয়ে চলার জন্য তাওয়াফের নামাজ কিছুটা বিলম্ব করে পড়া উত্তম। এ বিষয়ে তাবেঈ হজরত আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একদিন ফজরের নামাজের পর তাওয়াফ সম্পন্ন করে ‘যুতুওয়া’ নামক স্থানে চলে যান। পরে সূর্য ভালোভাবে উদিত হওয়ার পর তিনি তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১৩৪২৬)

একইভাবে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ফজর বা আসরের পর তাওয়াফ করা যেতে পারে, তবে নামাজ পরে আদায় করতে হবে। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর কিংবা সূর্য উদিত হয়ে যাওয়ার পর প্রতিটি তাওয়াফের জন্য দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নেওয়া উচিত।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১৩৪২৪)

যদি কেউ ভুলবশত সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের মতো নিষিদ্ধ সময়ে তাওয়াফের নামাজ আদায় করে ফেলে, তাহলে সেই নামাজ সহিহ হবে না; বরং পরে তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক। আর মাকরুহ সময়ে—যেমন আসরের পর— যদি কেউ তাওয়াফের নামাজ শুরু করে এবং মাঝপথে মনে পড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নামাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে কেউ যদি মাকরুহ সময়ে দুই রাকাত নামাজ সম্পন্ন করে ফেলে, তাহলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে, যদিও পুনরায় আদায় করা উত্তম।

আরেকটি বিষয় হলো— হারাম শরিফের সীমানার বাইরে তাওয়াফের নামাজ আদায় করা মাকরুহ। তবে কেউ যদি বাইরে আদায় করে, তাহলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।

তাওয়াফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে তাওয়াফ-পরবর্তী নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সময়ের বিধান মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তাই সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতার মাধ্যমে ইবাদত আদায় করলে তা হবে আরও শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..