যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে পোর্টল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশেই জন্ম নিয়েছে এক ফুটফুটে সন্তান। অ্যাশলি ব্লেয়ার নামের সন্তান জন্মদানকারী ওই নারীর মেয়ে সন্তানের নাম রাখা হয়েছে ব্রিয়েল রেনি ব্লেয়ার।
গত শুক্রবার রাতে বিমানটি ওরেগনের পোর্টল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক ২০ মিনিট আগে এই অভাবনীয় ঘটনা ঘটে।
বিমানটিতে যথাযথ চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকলেও, যাত্রী হিসেবে থাকা দুই প্যারামেডিক দ্রুত এগিয়ে আসেন। তারা সহযাত্রীদের দেওয়া কম্বল এবং নাভিরজ্জু বাঁধতে জুতার ফিতা ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রসব করান।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই রেনি ব্লেয়ারের জন্ম হয়। শিশুটির মা টেনেসির অ্যাশলি ব্লেয়ার সন্তান প্রসবের জন্য নিজের মায়ের কাছে ওরেগনে যাচ্ছিলেন। তবে অবতরণের প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার প্রসববেদনা শুরু হয়।
দ্য এসোসিয়েড প্রেস জানিয়েছে, প্যারামেডিক টিনা ফ্রিটজ জানান, তিনি ও তার সহকর্মী ক্যারিন পাওয়েল তখনই ডোমেনিক রিপাবলিক থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরছিলেন। শুরুতে তারা বিমানের আরেক অসুস্থ যাত্রীকে সহায়তা করছিলেন এক নার্সের সঙ্গে। পরে এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট অ্যাশলি ব্লেয়ারের প্রসব সহায়তার জন্য তাদের ডাকেন।
প্রসবের জন্য ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের কাছে ‘অবস্টেট্রিকাল কিট’ চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। উপায় না পেয়ে প্যারামেডিকরা তাৎক্ষণিকভাবে যা পেয়েছেন তা দিয়েই কাজ চালান। তারা অন্যান্য যাত্রীদের কাছ থেকে কম্বল সংগ্রহ করেন।
আইভি (IV) শুরু করার জন্য ক্যারিন পাওয়েল নিজের জুতার ফিতা ছিঁড়ে টর্নিকেট হিসেবে ব্যবহার করেন এবং নাড়ি (আম্বিলিক্যাল কর্ড) বাঁধার জন্য একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের জুতার ফিতা ব্যবহার করা হয়।
বিমান যখন রানওয়ে স্পর্শ করার ঠিক আগমুহূর্তে, তখন মা অ্যাশলি ব্লেয়ার চূড়ান্ত চাপ (পুশ) দেন এবং শিশুটি বেরিয়ে আসে। প্যারামেডিক পাওয়েল নাড়ি কেটে শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে পড়েন আর তখনই বিমানের চাকা রানওয়ে স্পর্শ করে।
বিমানটি অবতরণের পর পোর্টল্যান্ড এয়ারপোর্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ-এর একটি দল মা ও শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে এবং পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ডেল্টা এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে ফ্লাইটে সহায়তা করা স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। যদিও ডেল্টা তাদের বিবৃতিতে একজন ডাক্তার ও দুজন নার্সের কথা উল্লেখ করেছে। তবে প্যারামেডিক ফ্রিটজ স্পষ্ট করেছেন, সেখানে কোনো ডাক্তার ছিলেন না।
সদ্য মা হওয়া অ্যাশলি ব্লেয়ারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন প্যারামেডিক ফ্রিটজ। তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে আমরা এখন চিরকালের জন্য বন্ধু হয়ে গেছি।
এ জাতীয় আরো খবর..