সর্বশেষ :

মহানবী (সা.) যে সময়ে মিসওয়াক করতেন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৬, | ২০:৪৭:১৩ |

মিসওয়াক/সিওয়াক শব্দ ‘সাক’ শব্দমূল থেকে এসেছে। এর অর্থ ঘষা, মাজা বা মর্দন করা। পরিভাষায়, দাঁত থেকে ময়লা পরিস্কার করার জন্য কোনো গাছের ডাল ব্যবহার করাকে মিসওয়াক বলা হয়।

মিসওয়াকের মূল উদ্দেশ্য মুখ পরিষ্কার করা। 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সমগ্র জীবনে মিসওয়াকের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও যত্ন ছিল অতুলনীয়। আমির ইবন রাবিআহ (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে সিয়াম অবস্থায় অসংখ্য বার মিসওয়াক করতে দেখেছি। (বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪)
মিসওয়াক করার সময় মহানবী (সা.) জিহবাও পরিষ্কার করতেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমি নবী করিম (সা.)-এর কাছে প্রবেশ করলাম, তখন মিসওয়াকের একটি দিক তাঁর জিভের ওপর রাখা ছিল। (বুখারি, হাদিস : ২৪৪)
অর্থাত্ রাসুল (সা.) তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে মিসওয়াককে এক অবিচ্ছেদ্য অনুসঙ্গ করেছিলেন।

ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে : নবী করীম (সা.) ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করতেন। হুজায়ফা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন তিনি মিসওয়াক দ্বারা তাঁর মুখ পরিস্কার করে নিতেন। (বুখারি, হাদিস : ২৪৫, ১১৩৬)
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর সময় মিসওয়াক পাশে রাখতেন। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে প্রথমেই তিনি মিসওয়াক করতেন। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৫৯৭৯; সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস : ২১১১)

ঘরে প্রবেশের পর : ঘরে প্রবেশ করে তিনি মিসওয়াক করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন প্রথমে মিসওয়াক করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১)

সালাতের আগে : সালাতের আগে তিনি মিসওয়াক করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, (রাতের বিতর সালাতের জন্যে) আমি আগে থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মিসওয়াক ও ওজুর পানির ব্যবস্থা করে রাখতাম। আল্লাহ তাআলা যখন তাঁকে ঘুম থেকে সজাগ করতে চাইতেন, উঠাতেন। তিনি প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর অজু করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৭৪৬) 

মৃত্যুর আগে : আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) আমার ঘরে আমার পালার দিনে এবং আমার গন্ড ও সীনার মধ্যস্থলে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। নবী করীম (সা.) অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যকার কেউ দোয়া পড়ে তাঁকে ঝাড়-ফুঁক করতেন। আমি নবী (সা.)-কে ঝাড়-ফুঁক করার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে উঠিয়ে বলেন, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই), উচ্চে সমাসীন মহান বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রা.) আগমন করলেন। তাঁর হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবী করিম (সা.) তখন সেদিকে তাকালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে নবী করিম (সা.)-এর মিসওয়াকের প্রয়োজন। তখন আমি সেটি নিয়ে চিবালাম, ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করলাম এবং নবী (সা.)-কে তা দিলাম। তখন তিনি এর দ্বারা এত সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করলেন যে এর আগে কখনো এরূপ করেননি। তারপর তা আমাকে দিলেন। এরপর তাঁর হাত ঢলে পড়ল অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর হাত থেকে ঢলে পড়ল। আল্লাহ তাআলা আমার থুথু নবী (সা.)-এর থুথুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। তার এ দুনিয়ার শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে। (বুখারি, হাদিস : ৪৪৫১)

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..