গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছে মার্কিন প্রশাসন ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধা। গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সরাসরি আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের দুটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত মঙ্গলবার রাতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া এবং সিনিয়র মার্কিন উপদেষ্টা আরিয়েহ লাইটস্টোনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। লাইটস্টোনের সঙ্গে গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধা নেতা খলিল আল-হাইয়া চুক্তির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের ওপর বিশেষ চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি জানান, শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে হলে ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় চলমান সব ধরনের সামরিক হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ সুগম করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটলেও গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বা শাসনব্যবস্থা নিয়ে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়মিত হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতের বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন আগে আরিয়েহ লাইটস্টোন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রমতে, ইসরায়েল প্রথম ধাপের শর্ত পালনে নীতিগতভাবে সম্মতি দিলেও তার বিনিময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..