সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

রাসুল (সা.) যেভাবে চুলের যত্ন নিতেন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৬, | ১৮:৩০:১৪ |
চুল মানুষের ব্যক্তিত্বের আয়না। মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা হলো সুন্দর চুল থাকা। ইসলাম মানুষের এই স্বভাবজাত চাহিদাকে সম্মান দিয়ে চুল রাখা এবং কাটার ক্ষেত্রে অত্যন্ত রুচিশীল মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। স্বয়ং বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত চুলের যত্ন নিতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত মাথায় চুল রাখতেন। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে (যেমন হজের সময়) তিনি মাথা মুণ্ডনও করেছেন। শিশুদের ক্ষেত্রেও তিনি চুল কাটার অনুমতি দিয়েছেন। একবার তিনি হযরত জাফর (রা.)-এর ছেলের মাথা নিজ হাতে মুণ্ডন করে দিয়েছিলেন (আবু দাউদ)। সুতরাং ইসলামে চুল রাখা এবং নিয়ম অনুযায়ী মুণ্ডন করা—উভয়টিই অনুমোদিত।

চুল রাখা মানেই তা অবিন্যস্তভাবে ফেলে রাখা নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার মাথায় চুল আছে, সে যেন তার যত্ন নেয়। (আবু দাউদ)। চুলের যত্নে চিরুনি ব্যবহার করার ব্যাপারেও রয়েছে সুন্নাহসম্মত ভারসাম্য। তিনি সব সময় চিরুনি নিয়ে ব্যস্ত থাকাকে অপছন্দ করতেন, বরং বিরতি দিয়ে চিরুনি করার পরামর্শ দিতেন। তবে কারও চুল যদি খুব বেশি বড় হয়, তবে তাকে নিয়মিত চিরুনি করার নির্দেশ দিতেন, যেমনটি তিনি হযরত আবু কাতাদাহ (রা.)-কে দিয়েছিলেন।

মাথায় তেল ব্যবহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মাথায় প্রচুর তেল ব্যবহার করতেন। (শামায়েলে তিরমিজি)। এমনকি উম্মুল মুমিনীনগণও পরম মমতায় তাঁর মাথায় চিরুনি করে দিতেন। তাই চুলে তেল দেওয়া কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ হিসেবে সওয়াবের কাজও বটে।

চুলের যত্ন নেওয়া কেবল সাজসজ্জার অংশ নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের কদর করা এবং সুন্নাহর অনুসরণ। একজন মুমিনের চুল হবে পরিষ্কার, মার্জিত এবং সুবিন্যস্ত। অতিমাত্রায় কৃত্রিম সাজসজ্জা এড়িয়ে স্বাভাবিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়াই ইসলামের শিক্ষা।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবু দাউদ; শামায়েলে তিরমিজি; সুনানে নাসাঈ; সহিহ বুখারি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..