ইসলামি শরিয়তে নবজাতকের কল্যাণে পশু জবাই করা বা আকিকা করা একটি অত্যন্ত বরকতময় ইবাদত। এটি সন্তানের নিরাপত্তা ও নেক হায়াতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া প্রকাশের একটি মাধ্যম। তবে আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— আকীকার সর্বোত্তম সময় কোনটি এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর তা আদায় করা যাবে কি না?
হাদিস শরিফের নির্দেশনা অনুযায়ী, আকিকার জন্য সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও সর্বোত্তম সময় হলো সন্তান জন্মের সপ্তম দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত সপ্তম দিনে আকীকা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই কোনো বিশেষ অসুবিধা না থাকলে এই দিনেই আকিকা সম্পন্ন করা সুন্নত। অনেকের ধারণা, সপ্তম দিন পার হয়ে গেলে বুঝি আর আকীকা হয় না, তা কেবল সাধারণ দান বা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারণাটি সঠিক নয়। সপ্তম দিনের পরও আকীকা করলে তা 'আকীকা' হিসেবেই গণ্য হবে।
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি রেওয়াতে এসেছে, ‘আকিকা সপ্তম দিনে করবে। যদি তা সম্ভব না হয় তবে চৌদ্দতম দিনে এবং তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে করবে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম)। ফকিহগণের মতে, এভাবে পরবর্তী সময়ে যেকোনো দিন আকীকা করা বৈধ এবং তাতে আকীকার সুন্নাহ আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো, যে বারে সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, তার আগের দিনটিকে বেছে নিয়ে সপ্তম দিনের একটি হিসাব রক্ষা করা।
আমাদের সমাজে আকিকা মানেই বিশাল মেজবানি বা উৎসব মনে করা হয়। আসলে আকিকার মূল ইবাদত হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করা। মেজবানি বা বড় অনুষ্ঠান করা আকীকার অংশ নয়। কোনো উৎসব না করে কেবল আল্লাহর নামে পশু জবাই দিলেই আকীকা সম্পন্ন হয়ে যায়। আকীকা ইবাদতের ক্ষেত্রে সময় ও সামর্থ্যের সমন্বয় করা উচিত। সামর্থ্য থাকলে দেরি না করে সপ্তম দিনেই এই সুন্নাহটি পালন করা উত্তম। তবে বিশেষ কারণে দেরি হলে পরবর্তীতেও তা আদায় করে নেওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: মুস্তাদরাকে হাকেম, বর্ণনা ৭৬৬৯; জামে তিরমিজি, ১৫২২; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৬; ইলাউস সুনান ১৭/১১৮; তুহফাতুল মাওদূদ, পৃ. ৬৪
এ জাতীয় আরো খবর..