বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে পরকালে তার ঠিকানা জান্নাত নাকি জাহান্নাম। তাই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর ‘পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হয়ে পরকালে সফল হতে মহান রবের হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)
এজন্য পরকালে সফল হতে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ বা পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি উত্তম আমল জরুরি। বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে তাই নবীজি (সা.) যেমন বান্দাদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধ করেছেন, তেমনি দুনিয়াবি জীবনে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আখিরাতে সফল হওয়ার রাস্তাও বাতলে দিয়েছেন। এরমধ্যে একটি হাদিসে ছোট্ট একটি দোয়ার কথা এসেছে, যেটি পাঠ করলে বান্দার ১০ লক্ষ গুনাহ মাফ হওয়ার পাশাপাশি তার আমলনামায় সমপরিমাণ সওয়াব লিখা হয়। এমনকি জান্নাতে তার জন্য একটি বাড়িও নির্মাণ করা হয়।
উমার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি বাজারে গিয়ে এই দোয়া পাঠ করবে তার জন্য আল্লাহ তা’আলা ১০ লক্ষ নেকি (সওয়াব) লিখবেন, ১০ লক্ষ গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করবেন। দোয়াটি হলো-
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَىٌّ لاَ يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বাংলা: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহ্য়ি ওয়া-ইয়ুমিতু, ওয়াহুয়া হাইয়ুন লা-ইয়ামুতু, বিয়াদিহিল খাইর, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ (প্রভু) নেই, তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই, সব সাম্রাজ্য তারই। সব প্রশংসা তারই। তিনিই জীবিত করেন আর তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি চিরঞ্জীব, তার মৃত্যু নেই। তার হাতেই সব কল্যাণ। তিনি সব বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। (সুনাত আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪২৯)
এ জাতীয় আরো খবর..