সর্বশেষ :

শোডাউন দিয়ে বিপাকে ছাত্রদল নেতা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৩, | ১৮:০৪:১৭ |
চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুরে গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিক। এ ঘটনার পরই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিতে এই শোডাউন দেন মাসুদ রানা। এই শোডাউন ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনা শুরু হয় অর্থের উৎস নিয়েও। 

রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাসুদ রানার নেতৃত্বে শোডাউনটি শুরু হয়। ৫০টি গাড়িতে অংশ নেয় প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী। গাড়ি বহরটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় মাইক্রোবাস সমিতির একজন সদস্য জানান, বহরে যে ৫০টি গাড়ি যুক্ত হয়েছিল এর প্রতিটি মাইক্রোবাসের ভাড়া কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শোডাউনের জন্য অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় গাড়ি ভাড়া করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রানা মোবাইল ফোনে ৫০টি যানবাহন অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ব্যয়ের উৎস নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, শোডাউনের গাড়িগুলো জ্বালানি তেলে চালিত নয়। বেশিরভাগই এলপিজি ও সিএনজিচালিত গাড়ি। দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সংকটকালে সরকারি দল বা যারা দায়িত্বশীল জায়গায় আছে সংকট উত্তরণে তাদের এগিয়ে আসা উচিত। সেখানে ছাত্রদল নেতা যেটা করেছে সেটা একদমই কাণ্ডজ্ঞানহীন একটি কাজ করেছে। সেটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে, যা অন্যদেরও একই ধরনের কাজে উৎসাহিত করতে পারে।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা গাড়ি বহরের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এসেছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙের সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..