সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

চাঁদ দেখার যে অভিজ্ঞতা জানালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৯, | ১৭:১২:০১ |

চাঁদের বুক চিরে সুদূর মহাকাশে এক ঐতিহাসিক সফর শেষে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নিজেদের ‘অভিভূত’ হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা। 

ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে নভোচারীরা চাঁদের অসংখ্য গিরিখাত, ফাটল ও শৈলশিরার ছবি তোলার পাশাপাশি বিরল কিছু মহাজাগতিক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন। এর মধ্যে চাঁদ ও পৃথিবীর মেলবন্ধনে ‘আর্থরাইজ’ বা ধরিত্রীর উদয়, সূর্যগ্রহণ এবং ওরিয়েন্টাল ইমপ্যাক্ট বেসিনের মতো এমন কিছু অংশের ছবি রয়েছে যা আগে কখনো মানুষের চোখে ধরা পড়েনি।

এই অভিযানে চাঁদের দূরবর্তী অংশ অতিক্রম করার সময় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন নভোচারীরা।  চাঁদের চারপাশে ভ্রমণকারী নাসার প্রথম নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, চাঁদের ভূপ্রকৃতি এত কাছ থেকে দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে চাঁদের ধূসর বুক চিরে ল্যাম্পশেডের ছিদ্র দিয়ে আসা আলোর মতো উজ্জ্বল নতুন নতুন গর্তগুলো তাকে মুগ্ধ করেছে। 

একইভাবে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার জানিয়েছেন, জানালার বাইরে তাকিয়ে তার মনে হচ্ছিল তিনি যেন নিজেই চাঁদের সেই রুক্ষ পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছে আর্টেমিস-২ এর এই দল ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। অভিযানের এই সাফল্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন নভোচারীরা। 

কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন প্রেসিডেন্টকে জানান, চাঁদের যে অংশটি আমরা পৃথিবী থেকে দেখি তার তুলনায় বিপরীত পাশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে গভীর অন্ধকার এলাকা বা মারের আধিক্য অনেক কম। এছাড়া মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে রিড ওয়াইজম্যান বলেন, এই অভিযান আমাদের গ্রহকে ‘টু-প্ল্যানেট স্পিসিস’ বা দুই গ্রহের প্রজাতি হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই অভিযানে অপটিক্যাল কমিউনিকেশন ব্যবহার করে মাত্র ৪৫ মিনিটে ২০ গিগাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে, যা এক প্রযুক্তিগত সাফল্য। বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। 

আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মার্কিন পূর্ব সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণ করার কথা রয়েছে যানটির। তবে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা, যেখানে বাতাসের ঘর্ষণে ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে এই সফল চন্দ্রাভিযান মঙ্গল গ্রহসহ গভীর মহাকাশে মানুষের আগামীর স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..