✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

একদিনের ছুটিতে ইউরোপের ক্ষতি কত?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৮, | ১৮:১৫:৫১ |
ইউরোপজুড়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয় প্রতি বসন্তেই। বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ইস্টার মানডে, লেবার ডে কিংবা হুইট মানডের মতো একগুচ্ছ সরকারি ছুটিতে প্রায় অচল হয়ে পড়ে মহাদেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য। সাধারণ মানুষের জন্য এসব দিন উৎসব কিংবা বিশ্রামের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু অর্থনীতিবিদ এবং সঞ্চয় নিয়ে চিন্তিত নিয়োগকর্তাদের মনে দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন রয়েছে, ‘কর্মীদের বেতনভুক্ত এ ছুটির প্রকৃত আর্থিক মূল্য কত?’ সাম্প্রতিক সময়ে ডেনমার্ক এ প্রশ্নের একটি কঠোর উত্তর দিয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি ৩৪০ বছরের পুরনো ধর্মীয় উৎসব ‘গ্রেট প্রেয়ার ডে’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটানোর জন্য ছুটিটি বাতিল করে দেশটির সরকার।

কোপেনহেগেনের হিসাব অনুযায়ী, বছরে একটি ছুটি বাতিল করলে দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডেনিশ ক্রোনার (প্রায় ৪০ কোটি ইউরো) অতিরিক্ত কর রাজস্ব জমা হবে। সরকার জানিয়েছে, ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় নিশ্চিত করতে এ অর্থের প্রয়োজন ছিল। ছুটি বাতিলের পথে ডেনমার্কই প্রথম নয়। ২০১২ সালে অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্তুগাল চারটি সরকারি ছুটি বাতিল করেছিল। এর মধ্যে দুটি ছিল বেসামরিক এবং দুটি ধর্মীয় ছুটি। তবে সংকটের তীব্রতা কেটে যাওয়ার পর ২০১৬ সালে দেশটি ফের সে ছুটিগুলো ফিরিয়ে দেয়।

পর্তুগালের ক্ষেত্রে ছুটির প্রভাব আলাদাভাবে নিরূপণ করা কঠিন হলেও ডেনমার্কের মতো সেখানেও রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল অভিন্ন। অর্থাৎ রাজকোষে টান পড়লে সরকার আর ছুটির মতো ‘বিলাসিতা’ বজায় রাখতে চায় না। অর্থনীতিবিদ লুকাস রোসো এবং রদ্রিগো ওয়াগনার ২০০টি দেশের ২০ বছরের (২০০০-২০১৯) তথ্য বিশ্লেষণ করে ছুটির দিনের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছেন। আইএমএফের এক বিশ্লেষণে উল্লিখিত ওই গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিটি অতিরিক্ত সরকারি ছুটির কারণে বার্ষিক উৎপাদনের প্রায় দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ ক্ষতি হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, ছুটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে উৎপাদন খাতে। তবে খনি বা কৃষি খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোয় এর প্রভাব খুব একটা বোঝা যায় না। কারণ সেখানে কাজ বিরতিহীনভাবে চলতে থাকে। তবে মানুষ ছুটির দিনে বাইরে ঘুরতে বের হওয়া বা রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়ার ফলে পর্যটন ও সেবা খাতের আয় বাড়ে। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষতির অংক বিশাল। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির ২০২৪ সালের জিডিপি ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। সে হিসেবে দেশটিতে একটি কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার অর্থ হলো প্রায় ৩৪০ কোটি ইউরো মূল্যের উৎপাদন হারানো। 

খবর ইউরো নিউজ

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..