✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৪, | ১৯:০৫:৪৯ |পানেনকা শট, গোল হবে কি হবে না— হয়তো কিক নেওয়া খেলোয়াড়ও বুঝতে পারেন না। ভাগ্য ভালো থাকলে গোলকিপার শেষ হাসি হাসেন। এই যেমন সেনেগালের বিপক্ষে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে মরক্কোর আশরাফ হাকিমির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু সবশেষ পানেনকা শটের গল্পটা সাফল্যের। গতকাল (শুক্রবার) ভারতের বিপক্ষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এর ফাইনালে বাংলাদেশের রোনান সুলিভান পানেনকা গোলে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। টাইব্রেকারে তার শেষ শটে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ট্রফি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
পানেনকা শট, গোল হবে কি হবে না— হয়তো কিক নেওয়া খেলোয়াড়ও বুঝতে পারেন না। ভাগ্য ভালো থাকলে গোলকিপার শেষ হাসি হাসেন। এই যেমন সেনেগালের বিপক্ষে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে মরক্কোর আশরাফ হাকিমির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু সবশেষ পানেনকা শটের গল্পটা সাফল্যের। গতকাল (শুক্রবার) ভারতের বিপক্ষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এর ফাইনালে বাংলাদেশের রোনান সুলিভান পানেনকা গোলে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। টাইব্রেকারে তার শেষ শটে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ট্রফি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
১৯৭৬ সালে এই কৌশল উদ্ভাবনের পর ফুটবলের রথি-মহারথিরা এভাবে গোল করেছেন বা চেষ্টা করে গেছেন, তাও আবার বড় বড় মুহূর্তে। সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত পানেনকার দেখা মিলেছিল ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে। জিনেদিন জিদান ইতালির বিপক্ষে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। জিয়ানলুইজি বুফন ডানদিকে ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু বল গোলপোস্টের মাঝ বরাবর ক্রসবারে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে। তবে ম্যাচটি জিজুর জন্য ছিল হতাশাজনক। মেজাজ হারিয়ে মাতারাজ্জিকে ঢুঁশ দিয়ে লাল কার্ড দেখেন এবং শুটআউটে ফ্রান্স হেরে যায়। কিন্তু তার ওই গোলের মুহূর্তটি ফুটবলের রূপকথা হয়ে ছিল।
এই পেনাল্টিতে গোল করে স্মরণীয় হয়ে আছেন আন্দ্রে পিরলো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো ২০১২ শুটআউটে পানেনকা গোল করেন ইতালি গ্রেট। তিনি এই গোলের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘শেষ সেকেন্ডে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যখন দেখলাম জো হার্ট, ইংল্যান্ডের গোলকিপার, তার লাইনে দাঁড়িয়ে কসরত করছিল। আমি আমার রানআপ শুরু করলাম, তখনো সিদ্ধান্ত নেইনি কী করতে যাচ্ছি। যখন সে একটু নড়ল, আমার সিদ্ধান্ত নিলাম। এটা ছিল তড়িৎ সিদ্ধান্ত, পূর্বপরিকল্পিত নয়। শতভাগ স্কোর করার জন্য এটাই তখন একমাত্র সুযোগ ছিল।’
আধুনিক ফুটবলে আর্জেন্টাইন আইকন লিওনেল মেসি বহুবার এই কৌশল প্রয়োগ করেছেন। বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার এমন জাদুকরী গোল দেখা যেত প্রায় সময়। রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় করিম বেনজেমার একটি সফল পানেনকাও ছিল দেখার মতো। এডারসনের সামনে দাঁড়িয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে বোকা বানান ফরাসি তারকা। ম্যানসিটির বিপক্ষে ২০২১-২২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৪ গোলের বিপরীতে তৃতীয় গোল করে তিনি ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ান।
এই ধরনের কিক নিয়ে বিখ্যাত করে তুলেছেন সেবাস্তিয়ান আব্রিউ। প্রায় সময় এই শট নেওয়ায় ডাকনাম হয়ে গিয়েছিল ‘এল লোকো’ যার অর্থ পাগল। নিজের এমন নাম পছন্দ ছিল না তার। ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে উরুগুয়ের হয়ে এমন গোল করেন তিনি। তারপর বলেছিলেন, ‘জিদানের পেনাল্টিকে কোন বিশেষণে বর্ণনা করেন আপনারা? পাগলাটে? না, জাদু। তাহলে আব্রিউ কেন নয়।’

এক ম্যাচে দুইবার পানেনকা থেকে গোল করার কীর্তি ছিল আব্রিউর। ২০১১ সালে ফ্লুমিনেন্সের মাঠে তার জোড়া পানেনকা গোলে ৩-২ এ ঘুরে দাঁড়ানো জয় পেয়েছিল বোটাফোগো।
পানেনকা শট নেওয়ার সময় এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক খেলা চলে। ঝুঁকিও থাকে। মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে সার্বিয়ার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর আলেজান্দ্রো মিত্রোভিচ বলেছিলেন, ‘গতকাল মেম্ফিস ডিপেকে একটি গোল করতে দেখলাম। শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমি একটা বোকা।’ পানেনকা থেকে ব্যর্থদের কাতারে আছেন গ্যারি লিনেকার। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রীতি ম্যাচে দেশের হয়ে গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে শেষ বড় ভুল করেছিলেন করেছিলেন দিয়াজ। আফকন ফাইনালে সেনেগালের বিপক্ষে তার শটে খুব বেশি জোর ছিল না। প্রতিপক্ষ কিপার এদুয়ার্দো মেন্দি সহজেই বল হাতে নিয়ে নেন।

তবে শেষ পানেনকার গল্পটা সাফল্যের, যাতে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। করেছেন রোনান সুলিভান। যাকে মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশের নতুন তারকা। আমেরিকান প্রবাসী এই ফুটবলার মালদ্বীপের মালেতে হাজারো দর্শক-সমর্থকদের সামনে চাপের মুহূর্তে মাথা ঠাণ্ডা রাখলেন, যখন তার সতীর্থ স্যামুয়েল আগের শট ক্রসবারে মেরেছিলেন। তার ডানপায়ের আলতো টোকায় বল ফাঁকা গোলপোস্টের মাঝখান দিয়ে জালে জড়াল। তার আগেই ডানদিকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন সুরাজ সিং। ভারতীয় গোলকিপার যেন থ বনে গেলেন।
পেলের সেই কথাই ঠিক, এমন চাপে থেকেও এভাবে সহজ-সরল গোলের উপায় বেছে নেওয়া হয় পাগলামি নয়তো কোনো জিনিয়াসের কাজ। সাফে গিয়ে রোনান বাংলাদেশকে যেভাবে ফাইনালে তুলেছেন, তাতেই তার প্রতিভার ঝলক দেখা গিয়েছিল। শেষটাও করলেন জিদান, পিরলোদের মতো জিনিয়াসদের মনে করিয়ে।