সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

প্রচারে তুঙ্গে উত্তাপ, মোদিকে সরাসরি বিতর্কে চ্যালেঞ্জ মমতার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৩, | ২১:২৬:২৫ |
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ চরমে উঠছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কলকাতার এক নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি এক মঞ্চে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার সঙ্গে এক মঞ্চে বিতর্ক করতে।  মুখোশ টেনে খুলে দেব।  টেলিপ্রম্পটার ছাড়া তিনি কথা বলতে পারেন না।  শুধু সাজানো সাক্ষাৎকার দেন।  আমরা ভুল বললে তা সংশোধন করি।

নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।  তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে ভোট দিন।  এরা সিপিএমের থেকেও ভয়ঙ্কর।  এখন অনেক সিপিএম কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছে।  এরা খুবই বিষাক্ত রাজনীতি করছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কও উঠে আসে তার বক্তব্যে।  তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।  মমতা বলেন, যাদের নাম বাদ গেছে তারা দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন।  পার্টি অফিস থেকে ফর্ম নিয়ে সাহায্য করুন।  যারা নাম কেটেছে তাদের একটিও ভোট দেবেন না। মালদার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি ঘটনা পুরো বাংলার সম্মান নষ্ট করেছে।  তার দাবি, এই ঘটনার পেছনে বহিরাগতদের হাত রয়েছে।  

তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে কিছু লোক এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।  এ প্রসঙ্গে আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হায়দরাবাদ থেকে কিছু লোক এসে ভোটের সময় বিভাজনের রাজনীতি করছে। বিহারে যেমন হয়েছে, এখানেও সেই চেষ্টা চলছে।  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অপরাধ তদন্ত দপ্তরের প্রশংসা করেন।  তিনি বলেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের ধরা হয়েছে।  স্থানীয় পুলিশ নয়, সিআইডি এই কাজ করেছে।  তবে একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, ফলে তার হাতে সব ক্ষমতা নেই।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন তিনি।  বলেন, এত বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন এই ধরনের ঘটনা আটকানো যাচ্ছে না।  বাংলার মানুষ আতিথেয়তা দেবে আর ভোট লুট হয়ে যাবে তা হতে পারে না।  প্রচারে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন।  মণিপুর পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগে নিজের রাজ্য সামলান তারপর বাংলার দিকে তাকান।  তার কটাক্ষ, নির্বাচন এলেই কিছু নেতা সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

সংখ্যালঘু ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বিহারের মতো ভোট ভাগের খেলা এখানে চলছে।  তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।  তার দাবি, আগামী দিনে টিকে থাকতে হলে এই নির্বাচনে জয় জরুরি।  জনসভা থেকে তিনি আরও বলেন, এবার লড়াই দুরন্ত হবে।  নাম কাটার বদলা নিতে হবে ভোটের মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ভাষার তীব্রতা বাড়ছে।  সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ায় এই নির্বাচনী লড়াই আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..