সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

বৃদ্ধা মাকে ভাত না দেওয়ায় ছেলের গলায় কলসি বেঁধে ঘোরালেন চেয়ারম্যান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৫, | ১৯:৫৭:৫১ |
নিজের বৃদ্ধা মাকে শারীরিক নির্যাতন ও খাবার না দেওয়ার অপরাধে গলায় পানিভর্তি কলসি দিয়ে নোয়াখালীর সেনবাগে এক যুবককে অভিনব কায়দায় ‘সামাজিক শাস্তি’ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ সালিসি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন।

রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ওই যুবককে গলায় পানির কলস ঝুলিয়ে বাজার ঘোরানো হয়।

ঘটনাটি ঘটে জেলার সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ সহিদ (৩৫)। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর এবং স্থানীয় চিলাদি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে ছাগলের মাংস রান্না করা হলেও সহিদ তার বৃদ্ধা মাকে কোনো খাবার দেননি। ক্ষুধার্ত মা খাবার চাইলে সহিদ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।


পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মা ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করলে শনিবার রাতে গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) মাধ্যমে সহিদকে আটক করে পরিষদে আনা হয়।

রবিবার সকালে ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শাস্তিস্বরূপ সহিদের গলায় একটি পানিভর্তি কলস বেঁধে দেওয়া হয় এবং তাকে পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাকে উচ্চস্বরে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে দেখা যায়।


ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা বা নির্যাতন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইনি দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং অন্যদের শিক্ষা দিতেই এই তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে এই শাস্তিকে ‘যথাযথ’ এবং ‘সামাজিক সচেতনতামূলক’ বলে অভিহিত করলেও মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞরা ভিন্নমত পোষণ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ যা-ই হোক না কেন, প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে কাউকে হীনমন্য করা বা শারীরিক শাস্তি দেওয়া আইনসম্মত নয়।


আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি পুলিশ বা আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা।
সালিসি বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাওয়ার জন্য ছাতারপাইয়া ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..