সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

সিইএস ২০২৬-এ উড়ন্ত নৌযান থেকে ক্রুজার বাইক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১৪, | ২০:২৯:১৩ |

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তিপণ্যের মেলা কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শো (সিইএস) ২০২৬। এক সময় এই মেলা কেবল টিভি, ফ্রিজ কিংবা কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য পরিচিত থাকলেও, গত কয়েক বছরে এর রূপ পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন সিইএস মানে যেন ভবিষ্যতের অটোমোবাইল প্রদর্শনী।

এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে এমন সব যানবাহন ও প্রযুক্তি, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্য বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশাল আকৃতির ইলেকট্রনিক বাইক থেকে শুরু করে উড়ন্ত নৌকা, এমনকি নিজের সুটকেসের ওপর চড়ে বিমানবন্দর পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল এবারের আকর্ষণে। অটোমোবাইল বিশ্বের জাঁকজমকপূর্ণ এই আসর থেকে সেরা ছয়টি চমকপ্রদ উদ্ভাবন নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।

গ্রেট ওয়াল মোটরের ক্রুজার বাইক
চীনের অটোমোবাইল শিল্প যে কতটা এগিয়েছে, তার প্রমাণ মিলল গ্রেট ওয়াল মোটরের স্টলে। বছরে ১০ লাখেরও বেশি ভ্যান, এসইউভি ও ট্রাক তৈরি করা এই প্রতিষ্ঠান এবার তাদের ফ্ল্যাগশিপ মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হয়। গ্রেট ওয়ালের সহযোগী ব্র্যান্ড ‘সুও’ মেলায় প্রদর্শন করে তাদের ‘এস২০০০ সিএল’ মডেলের বাইক।

বাইকটির আকার ও ক্ষমতা রীতিমতো বিস্ময়কর। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২.০ লিটারের ফ্ল্যাট-এইট ইঞ্জিন। অর্থাৎ এতে ৮টি সিলিন্ডার রয়েছে, যা সাধারণত বড় স্পোর্টস কারে দেখা যায়। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আট গতির ডুয়াল-ক্লাচ ট্রান্সমিশন। ৯২৬ পাউন্ড ওজনের বিশাল এই বাইকটি রাস্তায় চলার সময় রাজত্ব করবে, তা বলাই বাহুল্য। ১৫২ হর্সপাওয়ারের এই বাইক মূলত হোন্ডার বিখ্যাত গোল্ডউইং মডেলকে টেক্কা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি আমেরিকার বাজারে কবে আসবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু জানাননি প্রতিষ্ঠানটির সিইও শেংগুয়াং ঝাও।

উড়ন্ত নৌযান নাভি ওয়েভফ্লাই ৫এক্স 
সোভিয়েত আমলের ‘এক্রানোপ্লান’ বা উড়ন্ত জাহাজের কথা মনে আছে? বিশাল সেই যানটি পানির ঠিক ওপর দিয়ে উড়ে চলত। এবার সেই প্রযুক্তি ছোট পরিসরে ফিরিয়ে এনেছে স্কুটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাভি। তাদের তৈরি ‘ওয়েভফ্লাই ৫এক্স’ দেখতে অনেকটা নৌকার মতো হলেও এটি আসলে একটি বৈদ্যুতিক সি-প্লেন।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এটি পানির ওপর দিয়ে গ্লাইড করতে পারে আবার আকাশেও উড়তে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৩ মাইল এবং ক্রুজিং স্পিড ৪০ মাইল। একবার চার্জে এটি টানা ৭০ মিনিট উড়তে সক্ষম। বিনোদনের জন্য তৈরি এই দুই সিটের যানটি মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে একটি ছোট মডেল হিসেবে। তবে এর কনসেপ্ট বা ধারণাটি এতটাই আকর্ষণীয় যে, এটি কেনার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন অনেকে।

জ্যাটকোর বাইসাইকেল গিয়ারবক্স
জ্যাটকো দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে নিশান ও সুজুকির মতো গাড়ির জন্য গিয়ারবক্স তৈরি করে আসছে। এবার তারা বাইসাইকেলের জন্য একটি অদ্ভুত সুন্দর বৈদ্যুতিক মোটর ও গিয়ারবক্স ইউনিট তৈরি করেছে। এটি আকারে এতই ছোট যে সহজে বাইসাইকেলের পেছনের চাকায় বসানো যায়।

‘২-ইন-১ ড্রাইভ ইউনিট’ নামের এই যন্ত্রটি সাধারণ প্যাডেল চালিত সাইকেলকে মুহূর্তে ই-বাইকে রূপান্তর করতে পারে। এর ভেতরে প্ল্যানেটারি গিয়ার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত বড় গাড়ির অটোমেটিক গিয়ারবক্সে দেখা যায়। এই প্রযুক্তির ফলে সাধারণ সাইকেল চালানো আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।

বিলাসবহুল ই-বাইক সিউলেটার
কোরিয়ান কোম্পানি কম্পাস রোজ মেলায় এনেছে তাদের ‘সিউলেটার’ নামের একটি নিও-রেট্রো ইলেকট্রনিক মোটরসাইকেল। এর নামটির উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি ‘সি ইউ লেটার’-এর মতো, যা বেশ কৌতুকপূর্ণ। তবে বাইকটির স্পেসিফিকেশন মোটেও হাস্যকর নয়।

পুরো কার্বন ফাইবারে তৈরি এই বাইকটির ওজন মাত্র ৩০০ পাউন্ডের কিছু বেশি। এতে রয়েছে ৩৪ হর্সপাওয়ারের বৈদ্যুতিক মোটর, যা ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ মাইল গতি তুলতে সক্ষম। একবার চার্জে এটি ১০০ মাইল পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বাইকটির দাম ৫০ হাজার ডলার শুনে চোখ কপালে উঠতে পারে! এর সিট তৈরি করা হয়েছে আর্জেন্টিনার কর্ডোবা চামড়া দিয়ে এবং ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে যুক্তরাজ্যের রেনল্ডস ৯৫৩ স্টিল। যারা একটু কম দামে বাইক খুঁজছেন, তাদের জন্য ড্যান্ডেলিয়ন ও ড্যামিবেল নামের আরও দুটি ছোট মডেল এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

লংবোর বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার স্পিডস্টার
২০২৫ সালের মার্চে লংবো তাদের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘স্পিডস্টার’ প্রজেক্টটি প্রথম সামনে এনেছিল। তবে সিইএসে এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শকরা। বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার হিসেবে এটি দেখতে দারুণ। পুরো বডি অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি হওয়ায় এর ওজন মাত্র ১ হাজার ৯৮৪ পাউন্ড, যা একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বেশ হালকা।

গাড়িটির মোটর ৩০০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে পারে। হালকা ওজনের কারণে এটি মাত্র ৩.৫ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ০ থেকে ৬২ মাইল গতি তুলতে সক্ষম। এর এইচ-আকৃতির ব্যাটারিটি গাড়ির মেঝের একদম নিচের দিকে বসানো হয়েছে, ফলে গাড়িটি রাস্তায় খুব ভালোভাবে গ্রিপ বা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। টেসলা রোডস্টার এখনো বাজারে না আসায় লংবোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল ডেভি মনে করেন, বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারের বাজারে এখন তাদের বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আপাতত ইউরোপের বাজারের জন্য ১৫০টি স্পিডস্টার তৈরি করা হচ্ছে, যার দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার।

জেনটেক্সের ইনফ্রারেড প্রযুক্তি
গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা জেনটেক্স এবার নজর দিয়েছে নিরাপত্তার দিকে। তারা এমন একটি ডিজিটাল রিয়ারভিউ মিরর ও ডিসপ্লে সিস্টেম এনেছে, যা ইনফ্রারেড বা তাপীয় ক্যামেরা ব্যবহার করে। আখরোটের চেয়েও ছোট এই ক্যামেরাগুলো গাড়ির সামনে ও পেছনে নজর রাখে। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব এটি কেবল ছবি দেখায় না, বরং সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাস্তার মানুষ বা প্রাণীকে শনাক্ত করতে পারে। যেমন রাতের অন্ধকারে গাড়ির সামনে হঠাৎ কোনো হরিণ বা অন্য প্রাণী চলে এলে চালক সাধারণ চোখে দেখার আগে এই সিস্টেম তাকে সতর্ক করে দেবে। এতদিন গাড়িতে থার্মাল ক্যামেরা থাকলেও তার কার্যকর ব্যবহার খুব একটা দেখা যায়নি, যা এবার জেনটেক্স করে দেখাল।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..