✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

সূর্যের শক্তিতে চলে খুদে গাড়ি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-৩০, | ১৪:২৬:৫০ |
সূর্যের তাপশক্তিকে কোনভাবে কাজে লাগানো যায়, বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের গবেষণায় তা এখন অন্যতম অগ্রাধিকার। যে জাতি যত বেশি সূর্যরশ্মি ব্যবহার করতে পারছে, তারা তত বেশি উন্নতির দিকে এগোচ্ছে। এ দৌড়ে সামনের সারিতে আছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এবার আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়াও এ প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে। তারা রোদকে কাজে লাগাতে চায়। 

কার্যত আফ্রিকার বৈদ্যুতিক যানবাহন বাজার দ্রুতগতিতে বড় হচ্ছে। বাজার গবেষণা সংস্থা মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের পূর্বাভাস, ২০৩০ সালের মধ্যে এ বাজার ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এটি বর্তমান মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি। তবে বেশির ভাগ যানবাহন এখনও গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, যা প্রায়ই নবায়নযোগ্য ও জীবাশ্ম জ্বালানি উৎসের মিশ্রণ থেকে আসে।


তিউনিসিয়ার কোম্পানি বাকো মোটরস আফ্রিকার অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক সম্পদ সূর্যালোক ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক গাড়ি বানানোর চেষ্টা করছে। তারা খুদে গাড়ি ও কার্গোভ্যানের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়েছে। এসব যানবাহনে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। চার্জ দেওয়া হয় বাড়িতে বা রাস্তায় প্লাগ ইন করে। তবু সৌর প্যানেলগুলো শক্তির এক বড় জোগানদাতা হিসেবে কাজ করে। সূর্যের তাপশক্তি থেকে এসব ব্যাটারি সরাসরি চার্জ করা যায়। এ পর্যন্ত কোম্পানিটি এ ধরনের ১০০টি যানবাহন তৈরি করেছে। আগামীতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা তাদের।
বাকো মোটরসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বোবাকার সিয়ালা বলেন, ‘সোলার সেল বা সৌর কোষ আমাদের চাহিদার ৫০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে। উদাহরণস্বরূপ বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বি-ভ্যান (এক ধরনের গাড়ি)। এ থেকে আপনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার চলার মতো বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পেতে পারেন। এ হিসাবে বছরে ১৭ হাজার কিলোমিটার। এটি বিশাল।’

২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি প্রথমে তিন চাকার কার্গো যানবাহন তৈরি শুরু করে। পরে তারা চার চাকার গাড়ি তৈরির দিকে ঝোঁকে। বি-ভ্যান ৪০০ কিলোগ্রাম কার্গো বহনে সক্ষম। এটি ১০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বে পণ্য ডেলিভারি দিতে সক্ষম। এর দাম শুরু হয় ২৪ হাজার ৯৯০ তিউনিসিয়ান দিনার বা আট হাজার ৫০০ ডলার থেকে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৫২২ টাকা)।
কিন্তু বাকো মোটরস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে দুই সিটের খুদে গাড়ি দিয়ে। ‘বি’ নামের গাড়িটি ৭০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এটি প্রতিদিনের শহরে ভ্রমণের জন্য তৈরি। দাম ১৮ হাজার ২৬৪ তিউনিসিয়ান দিনার বা ছয় হাজার ২০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় সাত লাখ ৫৭ হাজার ৫১০ টাকা) থেকে শুরু হয়।

বাকো মোটরসের সিইও খালেদ হাবাইব বলেন, তারা তৃতীয় মডেল এক্স-ভ্যানেরও নকশা করছেন, যা দুজন যাত্রী বহনে সক্ষম হবে। এর কার্গো এলাকা বড় হবে। তিনি জানান, তাদের প্রতিটি গাড়ির ৪০ শতাংশের বেশি যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে লিথিয়াম-আয়রন-ফসফেট ব্যাটারি এবং ইস্পাতও রয়েছে। এটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানও তৈরি করছে। 
বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাপটেরা মোটরসের মতো স্টার্টআপগুলো সৌর প্যানেলসহ গাড়ি তৈরি করছে। তবে সেগুলো অনেক বেশি ব্যয়বহুল। দাম শুরু হয় ৩০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭৩ টাকা) থেকে। বাকো মোটরস আফ্রিকান বাজারের শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইছে। তাই দাম সাশ্রয়ী।

সূত্র: সিএনএন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..