✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

সুনামি কেন হয়, কেন এর ঢেউ এত প্রাণঘাতী?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-০৭-৩০, | ০৯:৩১:১১ |

আজ থেকে দুই দশকেরও বেশি আগে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছিল ইন্দোনেশিয়াসহ ১১টি দেশ। ভারত মহাসাগরের গভীর তলদেশে সংঘটিত ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে উৎপত্তি হওয়া সুনামিতে প্রাণ হারান প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার আচেহ অঞ্চল।

সেই সময়কার এক ফাইল ছবিতে দেখা যায়, আচেহর উপকূলবর্তী অঞ্চল ছিল ধ্বংসস্তূপে পরিণত। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে তোলা সেই ছবিতে ধ্বংস, মৃত্যু আর মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ রূপ ধরা পড়েছিল। ২০১৪ সালের আরেকটি ছবির সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়, ধীরে ধীরে মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু সেই ক্ষতের দাগ এখনও মুছে যায়নি।

সুনামি কীভাবে সৃষ্টি হয়?

সুনামি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠে বিশাল ও আকস্মিক জলচাপ বা সঞ্চালনার কারণে সৃষ্ট তরঙ্গের একটি ধারা। সাধারণত শক্তিশালী ভূমিকম্প থেকেই সুনামির উৎপত্তি ঘটে। বিশ্বব্যাপী সনাক্ত হওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ সুনামিই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। তবে সমুদ্রের নিচে ভূমিধস, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও উল্কাপিণ্ড পতনের কারণেও সুনামি ঘটতে পারে।

ভূমিকম্প ও ভূমিধস: জোড়া বিপদ

 

সব ভূমিকম্প সুনামির কারণ হয় না। তবে যেসব ভূমিকম্প সমুদ্রপৃষ্ঠের খাড়া উল্লম্ব পরিবর্তন ঘটায়, তারাই সাধারণত সুনামির সূচনা করে। আবার অনেক সময় ভূমিকম্প সরাসরি সুনামি তৈরি না করলেও, সৃষ্ট ভূমিধসের ফলে সুনামি দেখা দেয়।

ভূমিধস-সৃষ্ট সুনামি অনেক সময় স্থানীয়ভাবে অধিক ধ্বংসাত্মক হতে পারে এবং প্রায় কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই উপকূলে আঘাত হানতে পারে। যদিও এগুলো দূরবর্তী উপকূলে পৌঁছাতে পারে না, তবুও তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে ব্যাপক।

আবহাওয়াজনিত সুনামি– মেটিওসুনামি

শুধু ভূকম্পন নয়, তীব্র ঝড় ও বায়ুচাপের পরিবর্তনও সুনামির মতো তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে। এসব তরঙ্গকে বলা হয় মেটিওসুনামি। এগুলোও বিপজ্জনক হতে পারে এবং অনেক সময় এগুলোকে ভূমিকম্প-সৃষ্ট সুনামি থেকে আলাদা করা কঠিন হয়। গ্রেট লেকস, উপসাগরীয় অঞ্চল, আটলান্টিক উপকূল, এমনকি ভূমধ্যসাগরেও এ ধরনের সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে।

সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি

বিশ্বজুড়ে সুনামির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এদের সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা অবিশ্বাস্য। একবার সৃষ্ট হলে, এগুলো ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে সমুদ্র পেরিয়ে উপকূলে এসে পড়ে। গভীর সমুদ্রে এগুলো প্রায় অদৃশ্য থাকলেও উপকূলে পৌঁছানোর পর উচ্চতা বেড়ে যায় এবং তীব্র গতিতে পানি ঢুকে পড়ে জনবসতিতে।

সুনামিকে কখনো কখনো টাইডাল ওয়েভ বা জোয়ারের ঢেউ বলা হলেও এটি ভুল ধারণা। কারণ সুনামির সঙ্গে জোয়ারের কোনও সম্পর্ক নেই।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..