সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

শিশু খেতে চায় না, কী করবেন?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-১০-৩০, | ০৮:১১:৫৭ |

শিশুরা খেতে চায় না—এমন অভিযোগ প্রায়শই মায়েদের কাছ থেকে শোনা যায়। কিন্তু একটি শিশুর সুষ্ঠু বেড়ে ওঠার জন্য খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত খাদ্য না পেলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন ঠিকমতো হয় না। শিশুরা কেন খেতে চায় না এবং কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায়, এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের শিশু পুষ্টি ও গ্যাস্ট্রো বিভাগের অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন আহমদ।

ডা. সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন জন অভিযোগ নিয়ে আসেন যে বাচ্চা খেতে চায় না। তবে অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনেরই কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। অর্থাৎ তাদের পেট খালি হয় না। কেউ দুদিন পর, কেউ তিনদিন পর বাথরুম করে।

 

তিনি আরও বলেন, বাচ্চাদের এক–দেড় বছর বয়সে টয়লেট ট্রেনিং করাতে হয়। তাদের বসে বাথরুম করাতে হয়। কোনো অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে বা হেঁটে বাথরুম করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই বাচ্চাগুলোর টয়লেট ট্রেনিং হচ্ছে না। বাবা-মা যতই ব্যস্ত হন না কেন, বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দেয়। দেখা যাচ্ছে, তারা ঠিকমতো বসে পেট পরিষ্কার করতে পারছে না। কেউ হাঁটতে হাঁটতে করছে, কেউ প্যাম্পারস পরে করছে।

 

যে ভঙ্গিতে করলে পেট পরিষ্কার হয়, সে ভঙ্গিতে বসতেই রাজি নয়। ফলে আস্তে আস্তে পায়খানা শক্ত হয়ে যায়। প্রথমে একদিন পর পর, তারপর দুদিন পর পর। এতে পেটে গ্যাস জমে যায়, পেট পরিষ্কার হয় না, খেতে চায় না। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি বড় কারণ।

অন্য একটি কারণ উল্লেখ করে ডা. সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, খাবারের খাওয়ার খারাপ অভ্যাস। ছোটবেলায় যখন খেতে বসলে বাবা-মা বলতেন— আগে শাক-সবজি খেতে হবে, তারপর মাছ-মাংস। এখন আর সেই অভ্যাস নেই। বাচ্চারা সবার আগে ভাতের সঙ্গে মাছ-মাংস নেয়। ভাত শেষ না করে শুধু মাছ-মাংস খেয়ে উঠে যায়। এতে সবজি না খাওয়ায় ফাইবারযুক্ত খাবার হয় না, ফলে পেট পরিষ্কার হয় না। বাথরুম না হলে গ্যাস জমে, ক্ষুধা কমে যায়, খেতে ইচ্ছে করে না।

 

তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় কারণ—বাইরের খাবার খাওয়া। যৌথ পরিবারে থাকলে বাবা-মা হয়তো বাচ্চাকে বাইরের খাবার দিতে চান না, কিন্তু বাড়ির অন্যরা চিপস, জুস, চকলেট কিনে দেয়। এতে ঘরের খাবারের প্রতি রুচি নষ্ট হয়। সবাই ভাবে—ঘরের খাবার না খেলে অন্তত দোকানের খাবার খেয়ে থাকুক। কিন্তু এগুলো অস্বাস্থ্যকর, আর এতে ঘরের খাবার একদম খেতে চায় না; শুরু হয় অপুষ্টি।

 

তাহলে সমাধান কী? পরামর্শ দিয়ে ডা. সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাচ্চাকে ঘরের খাবার খাওয়াতে হবে। শাক-সবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে। বাইরের খাবার একদম খেতে দেওয়া যাবে না। ছোটবেলা থেকে বাচ্চাকে টয়লেট ট্রেনিং করাতে হবে। প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দুইবার বাথরুম করা, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। পেট খালি হলে বাচ্চা অবশ্যই খাওয়া-দাওয়া করবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..