যশোরের ঝিকরগাছায় যাত্রীবাহী একটি ভ্যানের সঙ্গে গরুবোঝাই নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভাই-বোন নিহত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঝিকরগাছা-ছুটিপুর সড়কের মাগুরা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নসিমনচালকসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
নিহত শিশুরা হলো—মিশ্রীদেয়াড়া গ্রামের সাধন কুমারের ছেলে শোভন (১০) ও মেয়ে দিশা (৩)। তাদের বাবা সাধন কুমার যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে শোভন ও দিশা তাদের মা ও দাদির সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা দেখতে বের হয়েছিল। পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে পরিবারের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে চড়ে বাড়ি ফিরছিল তারা। পথিমধ্যে ফুলতলা এলাকার কাউন্সিল রোডে পৌঁছালে ছুটিপুর থেকে ঝিকরগাছাগামী একটি বেপরোয়া গরুবোঝাই নসিমন তাদের ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ওপরে উল্টে পড়ে। এতে ভ্যানে থাকা দুই শিশুসহ নসিমনচালক মারাত্মকভাবে জখম হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শোভন ও দিশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আঘাতের কারণে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাদের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নসিমনচালক আব্দুল মাজিদ (কেশবপুর উপজেলার গড়ডাঙ্গা গ্রামের আহম্মেদ বিশ্বাসের ছেলে) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভ্যানে থাকা অপর আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঝিকরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফুলতলা এলাকায় গরুবোঝাই নসিমনের চাপায় ভ্যানযাত্রী দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় ঘাতক নসিমন জব্দসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ জাতীয় আরো খবর..