✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৯, | ১৪:০৩:৪৩ |চলমান ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য দল থেকে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন ও মাইকেল আথারটনকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পিসিবি ঘোষিত ছয় সদস্যের ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় নাম নেই হুসেইন ও আথারটনের। চলতি বছরের শুরুতে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের খেলার সময় আথারটনের নেওয়া ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান খানের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করেছিল স্কাই স্পোর্টস।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ পাকিস্তান সফরেও ধারাভাষ্য দলের সদস্য ছিলেন আথারটন ও হুসেইন।
লর্ডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ চলাকালে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ হিসেবে ওই দিনের বিকেলের সেশনে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মাঠে না নামানোর হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বলে জানা গেছে।
সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান অভিযোগ করেন, অবহেলা ও একাকিত্বের মধ্যে রেখে কর্তৃপক্ষ 'প্রকাশ্যেই তাকে হত্যার চেষ্টা করছে'।
ইমরান খান ও জেমিমা গোল্ডস্মিথের দ্বিতীয় ছেলে কাসিম বলেন, কারাগারে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তার অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার একইভাবে তার বাবাকেও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ইমরানের দুই ছেলের দাবি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিনের ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একটি ছোট কক্ষে একা থাকেন। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, 'কারিগরি কারণ' দেখিয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। তাদের বক্তব্য, ইমরানের আত্মীয়স্বজন, আইনজীবী কিংবা চিকিৎসকদের তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বক্তব্যসংবলিত সাক্ষাৎকারটির কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার হুমকি দিয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানায় বোর্ড। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি অবশ্য দেশের ভেতরে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি।
২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির ৭৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগ বেড়েছে।
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান অধিনায়কের চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দেশটির সরকারের কাছে চিঠি লিখেছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার।