✕

সর্বশেষ :
মদিনা-জেদ্দার পথই এখন সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভরসা আর্জেন্টিনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় ভবন দখল সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষায় কঠোরতা প্রশাসনের বিশ্বকাপে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর কঠোর নিয়ম আনছে ফিফা ইরানি স্লিপার সেলের ভয়ে ছিল আমিরাত? দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি: কমিশনার তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস আশঙ্কাজনক হারে গলছে ‘ডুমসডে গ্ল্যাসিয়ার’, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে বিশ্ব ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু দেশের ২৭২৭ পূজামণ্ডপে বিজিবি মোতায়েন, দুর্গম এলাকায় ২১ বেস ক্যাম্প

আর্জেন্টিনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় ভবন দখল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৬, | ১৫:২৩:০৪ |

প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের কঠোর অর্থনৈতিক নীতি ও তীব্র বাজেট স্বল্পতার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাঙ্গন। দেশটির নামী সরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আইরেসের বিজ্ঞান ভবনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং এক দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভবন দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং সরকারি অবহেলার প্রতিবাদ জানাতে এই ঐতিহ্যবাহী পন্থায় আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

আর্জেন্টিনার বিখ্যাত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতে, সরকারের অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে সেরা শিক্ষকরা গণহারে দেশ ছাড়ছেন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন। বর্তমান সংকটে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো তো দূরের কথা, মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। 

পদার্থবিদ্যার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষাদান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ফ্রি উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইতিহাসের অন্যতম কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিনি হাজার হাজার সরকারি চাকরি ছাঁটাই, মন্ত্রণালয় বন্ধ, ভর্তুকি হ্রাস এবং বিভিন্ন অনুদান কর্মসূচি বাতিল করেছেন। 

সরকারের দাবি, এই কঠোর ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমে মাসিক প্রায় ২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং দেশটি টানা ২৭ মাস ধরে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট মিলেই তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

তবে সরকারের এই দাবির সঙ্গে তীব্র দ্বিমত পোষণ করছেন দেশের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মিলেইয়ের এই নীতির কারণে একদিকে যেমন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী কল্যাণ তহবিল, পেনশনভোগী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরম বিপাকে পড়েছে। গত বছর কংগ্রেস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা-সংক্রান্ত দুটি আইন পাস করলেও মিলেই সরকার তহবিলের উৎস না থাকার অজুহাতে তা কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলস্বরূপ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট পুনরুদ্ধার, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও স্বাস্থ্য খাতের অর্থ বরাদ্দ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় এক ফেডারেল আদালত সরকারকে প্রতিদিন ১ লাখ পেসো বা প্রায় ৭০ মার্কিন ডলার করে জরিমানা করা শুরু করেছে।

আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং সরকারি অবহেলার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ বুয়েনস আইরেসের রাজপথে নেমে আসেন। সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়ে বিক্ষোভকারীরা শহরের কেন্দ্রস্থল অবরুদ্ধ করে রাখেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কংগ্রেস ভবনের সামনের চত্বরটি একপ্রকার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

রসায়ন বিভাগের এক অধ্যাপক জানান, মাসে মাত্র ৭০০ ডলার বেতনে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং বাধ্য হয়েই শেষ উপায় হিসেবে তিনি রাজপথে নেমেছেন। তার মতে, সবার জন্য বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একদিকে যেমন একটি বড় দল মিলেইয়ের অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল পাওয়ার আশায় এখনো তাকে সমর্থন করে যাচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা এখন সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..