✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৫, | ০১:২৩:২৯ |বন্যেরা বনে সুন্দর,শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। এটাই সুন্দর ও শ্বাশত। কিন্ত যে শিশুর মা নেই, সে মাতৃক্রোড় কোথায় পাবে। শেরপুর জেলা প্রশাসক এর কোলে উঠে ক্ষণিকের জন্য মায়ের উঞ্চ তাপের পরশ নিলো অনাথ আব্দুল্লাহ। এই শিশুটির বয়স মাত্র তিন মাস।
দেড় মাস বয়সে মা খুনের শিকার হয়। এরপর আব্দুল্লাহ দাদাদাদির সাথে থাকতে শুরু করে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ওদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। রবিবার দুপুরে স্বজনরা আব্দুল্লাহকে নিয়ে গণশুনানীতে জেলা প্রশাসকের কাছে এসে ছিলেন। এ সময় তারা ডিসির অদূরে বিপরীত পাশের চেয়ারে বসেছিলেন। ওই স্থান থেকেই আব্দল্লাহ বারবার ডিসির কোলে উঠার জন্য হাত বাড়াচ্ছিল।
বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিতে আসলে আব্দুল্লাহকে কোলে তুলে নেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন। কোলে উঠেই শিশুটি খেলা শুরু করে। ডিসির গলার মালা, গলা, কপাল, ধরে হাসি আনন্দে মেতে উঠে শিশুটি। সে যেন মায়ের কোলকে খোঁজে পেয়েছে। শিশুকে বারবার কোল থেকে নামিয়ে কাজে ফেরার চেষ্ঠা করেও পরাজিত হয়েছেন তিনি।
আধা ঘণ্টা আদর ও খুঁনসুটি করে অন্যের সহযোগিতায় অবশেষে স্বজনের কোলে দেওয়া গেছে আব্দুল্লাহকে। এ সময় তার কান্নায় চোখের কোনে পানি জমেছিল ফরিদা ইয়াছমিনের। তবে দ্রুত আবেগ সংবরণ করে গণশুনানীর কাজে মনোনিবেশ করেন নারী ওই জেলা প্রশাসক। বিষয়টি উপস্থিত কর্মকর্তা ও গণশুনানীতে আসা মানুষের হ্নদয় কেড়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহাম্মেদ বলেছেন এই স্মৃতিতে ধরে রাখার মত।অবুঝ ওই শিশুকে কোল থেকে নামাতে কষ্ট ও খারাপ লেগেছে। উপস্থিত সবাই আপ্লুত হয়েছেন। মায়ের অনুপস্থিতি অন্য মায়ের কোলে উঠে সে মাকে অনুভব করেছে। আমরা কিছুক্ষণ নীরবতায় বিষয়টি অবলোকন করেছি। যে বুকের স্পর্শে একদিন সে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ত, সেই বুক যে আর কখনো ফিরে আসবে না। এই নির্মম সত্য বোঝার বয়স এখনো হয়নি তার। শিশুটিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও কাপড় চোপড় দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন বলেছেন, আমি জেলা প্রশাসকের বাইরে একজন মা। যে কোন শিশুর প্রতিই আমার দুর্বলতা আছে। একটু বিশেষ খারাপ লেগেছে। আমি ঘনঘন শিশুটির খবর রাখবো।