দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় টানা ১ মাস ২ দিন পর কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে তলিয়ে থাকা ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের দৃষ্টিনন্দন সেতুটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের চলাচলের নিষেধাজ্ঞা। ফলে সেতু ঘিরে ফিরেছে চেনা ব্যস্ততা। পর্যটকদের মধ্যেও ফিরেছে স্বস্তি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পর্যটকদের ভিড়। পরিবার, শিশু কিশোর এসেছেন অনেকেই। কেউ সেতুতে সেলফি তুলছেন, কেউ নৌভ্রমণ উপভোগ করেছেন। এর বেশিরভাগই তরুণ তরুণী। ঘড়ি কিনুন
এ মৌসুমে সেতু ডুবে যাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। গত ১১ সেপ্টেম্বর সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। নিরাপত্তার কারণে ওই দিনই বন্ধ করা হয় পর্যটকদের প্রবেশ।
তবে সেতু ডুবে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রতিবছর বর্ষায় হ্রদের পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় রাঙামাটির পর্যটনের প্রধান এই আকর্ষণ। চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় গত ২৯ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ডুবে থাকে সেতুটি। এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর ৮৫ দিন ডুবে থাকার পরে দৃশ্যমান হয়েছিল এ সেতু। এতে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোকসানে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ ১২ অক্টোবর বিকেল থেকে পানি সরতে শুরু করলে সংস্কার শেষে তুলে নেওয়া হয় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় এ পর্যটন স্থাপনা পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় উচ্ছ্বাসিত দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরাও।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা তানিয়া আক্তার বলেন- 'পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি আর কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ নীল জলরাশি মন ভালো করে দেয়। বার বার আসতে মন চায়। দারুণ উপভোগ করছি'।
বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন- 'দেশের অন্য পর্যটন স্পট থেকে রাঙামাটি অনন্য। একদম আলাদা। এখানকার সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো যায় না। এজন্য সুযোগ হলেই ছুটে আসি এখানে। আমাদের ভাগ্য ভালো বলতে হবে- ডুবে থাকা সেতু ভেসে ওঠায় ঘুরতে পারলাম, ছবিও তুললাম। অসাধারণ ভালো লাগার একটা অনুভূতি নিয়ে ফিরতে পারবো'।
ঝুলন্ত সেতুর নৌ-ঘাট টোল আদায়কারী ফখরুল ইসলাম বলেন- 'একমাসের বেশি সময় ডুবে থাকার পরে সেতু ভেসে উঠেছে। এরই মধ্যে সেতুর সংস্কার কাজ শেষে পর্যটকদের জন্য গতকাল থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি পূজার ছুটি আর পর্যটন মৌসুমে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণে আসবেন।'।
ঝুলন্ত সেতু টিকিট কাউন্টারের ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন,- 'দীর্ঘদিন ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় সরকার প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। সেতু বন্ধ থাকলে রাঙামাটির পুরো পর্যটন খাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এখন সেতু খুলে দেওয়ায় বিগত সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন সেতু কর্তৃপক্ষ।'।
দৃষ্টিনন্দন এ ঝুলন্ত সেতুটিতে বছরে ১০ লাখের বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশ ফি থেকে বাৎসরিক আয়ের অঙ্কে দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকার অধিক। অথচ প্রতি বর্ষায় পানির নিচে হারিয়ে যায় এই আকর্ষণ, একইসাথে বিরূপ প্রভাব পড়ে পর্যটন খাতে। তাই বারবার সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার বদলে পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি পর্যটনসংশ্লিষ্টদের।
এ জাতীয় আরো খবর..