✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১০, | ০১:১১:৪৭ |আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো আধুনিক করা সম্ভব হয়নি। ঢাকার আমিনবাজারে ইতিমধ্যে ওয়েস্ট টু এনার্জি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণেও ওয়েস্ট টু এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এবার জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না হওয়া পর্যন্ত দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গাজীপুর সাফারি পার্কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, পার্কটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো, এটি যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে ঢাকায় সভা ডেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।
সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির বিষয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, লেমুর দুটি অবৈধভাবে এখানে আনা হয়েছিল। সেগুলো আবার পার্ক থেকে চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। আম্বানির চিড়িয়াখানা থেকে লেমুর দুটি এসেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বনের জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, একটি দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। এ অবস্থায় চাইলেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আগে থেকে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বনের জমি দখলের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে যেসব স্থাপনা বনের বাইরে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রায় ৪৬৫ একর জমি রয়েছে। বনের ভেতরের এসব জমিতে মানুষ যেতে বা কোনো কাজ করতে পারছে না। আবার সেখানে অনেক জনবসতিও গড়ে উঠছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এসব সমস্যা সমাধানে আইন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে নিয়ে চলতি মাসের মধ্যে আলোচনায় বসা হবে। এর মাধ্যমে জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে দুপুরে পরিবেশমন্ত্রী গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল-মামুন।
আরও উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, সহকারী বন সংরক্ষক মো. সামসুল আরেফিন, গাজীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুবকর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মাহফুজ হাসান হান্নান এবং সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানসহ অন্যরা।