✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৫, | ১২:৫৭:৩৫ |ব্রিটেনের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক যানবাহন ঘিরে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের তদন্তের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বিমান সরিয়ে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে ওয়াশিংটন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
তবে ব্রিটিশ সরকারি সূত্রগুলো এই সিদ্ধান্তটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন সম্ভাবনা নাকচ করেনি। বিবিসি জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক নয়, সামরিক পর্যায়ে পরিচালনাগত কারণে নেওয়া হয়েছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে।
ঘটনার দিন গ্লুচেস্টারশায়ারের মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং সবাই লন্ডনের বাসিন্দা ব্রিটিশ নাগরিক।
প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগও আনা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ তাদের জামিনে মুক্তি দেয়।
এর কয়েক দিন পর লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেও পরে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছিলেন, এর সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরান অবশ্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ঘটনার কয়েক দিন পর বলেছিলেন, এতে ‘স্পষ্টতই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত’ রয়েছে। তবে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে ‘সবকিছু জানে’ এবং তাদের জামিনে ছেড়ে দিত না। একই সঙ্গে এ ঘটনায় ব্রিটেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের জন্য এখান থেকে মার্কিন বোমারু বিমান উড্ডয়ন করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ব্রিটেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি ইরানি বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ অবস্থায় ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সব বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বিমান সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।