✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৪, | ১৩:০৮:৩০ |ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পর্তুগালের প্রসিকিউটররা। দেশটির লাজেস বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ব্যবহার করেছে এবং এ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্তুগাল সরকারের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পর্তুগালের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিরোধী বামপন্থী দল লেফট ব্লকের কয়েকজন সদস্যের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তটি শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের বিষয়ে এর বেশি কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় মার্চ মাসে পর্তুগালের কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস বিমানঘাঁটি দিয়ে বেশ কয়েকটি ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। এ সিদ্ধান্তের পর দেশটির বামপন্থী বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার।
মার্কিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত
পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় শান্তিকালীন সময়ে ওয়াশিংটন পর্তুগালের লাজেস ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটিটি ব্যবহারের জন্য পর্তুগাল সরকারের অনুমোদন নিতে হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই অনুমোদন দেওয়ার বৈধতা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।
পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে। ওয়াশিংটনকে নিশ্চয়তা দিতে হয়েছিল যে, ঘাঁটিটি ব্যবহার করে পরিচালিত যেকোনও সামরিক অভিযান হবে আত্মরক্ষামূলক বা প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক এবং তা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে, লাজেস ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও পর্তুগালের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত
তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় দেশটির বামপন্থী বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে পর্তুগালের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
লেফট ব্লকের সদস্যদের অভিযোগের পরই প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার চুক্তি ও আইনি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লাজেস ঘাঁটি
আটলান্টিক মহাসাগরের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লাজেস বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ ও বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ঘাঁটিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্তুগালের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ঘাঁটি। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বিমানকে লাজেস ব্যবহার করতে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে পর্তুগালের বামপন্থী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির ভূখণ্ড বিদেশি সামরিক অভিযানে ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়ে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
এখন প্রসিকিউটরদের তদন্তে মূলত নির্ধারণ করা হবে- যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্তুগাল সরকার সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেছিল কি না। তদন্তের ফলাফল দেশটির ভবিষ্যৎ সামরিক সহযোগিতা ও বিদেশি সামরিক কর্মকাণ্ডে পর্তুগালের ভূমিকা নিয়েও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স