✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৩, | ০০:৩১:২৯ |বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক আগস্টের ১৩৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ১৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটিই সর্বোচ্চ সূচক।
এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ভোক্তাদের ওপর দ্রুত এর প্রভাব পড়বে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনির দাম। আগস্টের তুলনায় এটি ৬.১ শতাংশ বেড়ে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত বৈরী আবহাওয়া ও ‘এল নিনো’র প্রভাবেই এমনটা হয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার ফলন কম হওয়া ও কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যশস্যের দামও বেড়েছে ৫.১ শতাংশ। এছাড়া যুদ্ধের কারণে গমের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাম তেলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ভোজ্যতেলের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে ইউরোপে নতুন নিয়মের কারণে পোলট্রির বা মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় মাংসের দাম ১.১ শতাংশ কমেছে।
এফএও জানায়, ২০২৬ সালে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৯৭ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন। এটি আগের বছরের রেকর্ড ফলনের চেয়ে ২.১ শতাংশ কম হলেও ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদন। তবে কৃষ্ণসাগর দিয়ে গম ও ভুট্টার মতো শস্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা থাকায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য বাণিজ্যের পূর্বাভাস আগের চেয়ে দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়েছে সংস্থাটি।