✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৩, | ০০:৩০:৩০ |আইপিএলের পরবর্তী আসরের জন্য ক্রিকেটারদের ধরে রাখার (রিটেনশন) সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ওপেনিং ব্যাটার অভিষেক শর্মা সানরাইজার্স হায়দারাবাদ ছাড়ার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, গুজরাট টাইটানস এবং পাঞ্জাব কিংসের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নাম উঠে আসছে। এছাড়া দিল্লি ক্যাপিটালসের কথাও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজটি ঈশান কিষানকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অভিষেক শর্মা দলের ওপর অসন্তুষ্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিষেকের নিজেও অধিনায়ক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল; আর এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রিকেটার ও ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে এক ধরণের টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছে।
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে গোয়ায় অনুষ্ঠেয় মিনি নিলামের আগে নিজেদের ধরে রাখা খেলোয়াড়দের (রিটেইনড প্লেয়ার) মূল তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য দলগুলোর হাতে এক মাসেরও বেশি সময় রয়েছে। এই সময়ে অভিষেক এবং আগ্রহী ফ্র্যাঞ্চাইজি উভয় পক্ষের জন্যই কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজেদের বিকল্পগুলো যাচাই করে দেখার সুযোগ করে দেয়।
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এই ওপেনারের প্রতি আগ্রহীদের তালিকায় অন্যতম প্রধান নাম হিসেবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি গুজরাট টাইটানস এবং পাঞ্জাব কিংসও এই দৌড়ে রয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালসও একটি সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে। কারণ যুবরাজ সিং এখন তাদের দলের সাথে মেন্টর বা পরামর্শদাতার ভূমিকায় যুক্ত আছেন। যুবরাজের সাথে অভিষেকের সুসম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এটি অভিষেকের জন্য আকর্ষণীয় একটি দিক হতে পারে।
সানরাইজার্স হায়দারাবাদের একটি সূত্র বরাতে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈশান কিষানকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকে অভিষেক শর্মা অসন্তুষ্ট, তা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই তার অধিনায়ক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, গুজরাট টাইটানস এবং পাঞ্জাব কিংসের নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে দিল্লি ক্যাপিটালসের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কারণ তার মেন্টর যুবরাজ সিং এখন তাদের দলের অংশ।
চলতি বছরে অনুষ্ঠিত আইপিএলের সবশেষ আসরে প্যাট কামিন্স চোটের কারণে দলের বাইরে থাকার সময় ঈশান কিষানকে অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে কামিন্স সুস্থ হয়ে নিয়মিত অধিনায়কের দায়িত্ব বুঝে নেন। তবে আগামী আসরের ইশান কিষানকে পূর্ণকালীন অধিনায়ক করার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকল্পনায় অভিষেকের অবস্থান সর্বোচ্চ ‘সহ-অধিনায়ক’ হিসেবেই রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত অধিনায়কত্বের খুব বেশি সুযোগ নেই। কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস এই দুটি বিকল্প থাকলেও, বাকি দলগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল বা চূড়ান্ত বলেই মনে হচ্ছে। তাই সানরাইজার্স হায়দারাবাদ এবং অভিষেক যদি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তও নেন, তবুও বড় প্রশ্ন থেকে যায় কোথায় যাবেন তিনি? আর রাজি হলেও হায়দারাবাদ নিজেদের অবস্থান কীভাবে ঠিক করবে? অর্থের বিনিময়ে চুক্তি নাকি খেলোয়াড় অদলবদল (প্লেয়ার ট্রেড)? অনেকগুলো বিষয় রয়েছে।
তবে দলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে. শানমুগাম অভিষেকের অসন্তোষের খবরকে ‘অসত্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও ফ্র্যাঞ্চাইজটির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো, কোনো সমস্যা নেই। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এরই মধ্যে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।