✕


ট্রাম্পের চাপের মুখে তেল ছাড়ছে ‘জি-৭’ জোটের সদস্যরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০২, | ০০:০০:০৪ |

জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের মুখে উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট ‘জি-৭’। জোটটি তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ব্যারেল পর্যন্ত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে আগামী চার মাস ধরে এই তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়াটি চলবে। ম্যাক্রোঁ বর্তমানে জি-৭-এর সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি-৭-এর এক ভিডিও কনফারেন্সের পর ট্রাম্প বলেন, ইউরোপ তাদের বিপুল মজুত ভাণ্ডার থেকে প্রচুর পরিমাণে ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করেন, এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর থেকেই কয়েক দফায় জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে।তবে জুলাইয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করার পর এই গ্রীষ্মে ডিজেলের দাম নতুন করে আরও বেড়ে যায়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম ৭০ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।

জি-৭ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চার মাস সময়কালে মোট ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়া হবে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে মার্চ মাসে ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’র সদস্য দেশগুলো ৪০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছিল। সেই পদক্ষেপ জ্বালানি সরবরাহের সংকট কিছুটা লাঘব করলেও দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত জ্বালানির দাম অত্যধিক উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। এই খবরের প্রভাবে ‘ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল’ বা অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশ কমলেও তা ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরেই অবস্থান করছিল। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর ওপর বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক দিনের চাপের ফলেই জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে এই সমঝোতা হয়েছে। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজেল মজুতের একটি বড় অংশ এই দেশগুলোতে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখেন, বিশ্বজুড়ে ডিজেল সংকটের বোঝা আমেরিকার কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এর আগে শুক্রবার সকালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা ডিজেলের ওপর যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে। ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা কারও জন্যই লাভজনক হবে না।

সূত্র: এনবিসি নিউজ, রয়টার্স।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..