✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০২, | ১৪:৪৭:০২ |যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দু’টি ডোজ প্রয়োগের পরও ক্রিস্টা গেইল পাইক (৫০) বেঁচে গেছেন। তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যটিতে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ক্রিস্টা পাইকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি।
তিনি জানান, বিষাক্ত তরল প্রয়োগের পরও ক্রিস্টা অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন এবং হাসপাতালে তাকে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার শারীরিক পরিস্থিতি কতটুকু উন্নতি হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ভেতরে কী ঘটেছিল, তার এক লোমহর্ষক বর্ণনা দেন আইনজীবী স্পাইভি। তিনি জানান, বুধবার রাতে কার্যকরকারী দল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ক্রিস্টা পাইকের শিরায় সুই (আইভি লাইন) বসানোর চেষ্টা করে। কেবল তার বাম হাতেই অন্তত সাতটি সুই ফোটানো হয়েছিল, যার মধ্যে একটি বাঁকা হয়ে বের হয়ে আসে। কয়েদি ক্রিস্টা নিজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করলেও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
পরপর দুইবার বিষাক্ত ‘পেন্টোবারবিটাল’ ইনজেক্ট করার পরও দেখা যায় ক্রিস্টা পাইক স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অন্ধকার কক্ষে রেখে মাঝের পর্দা টেনে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে থাকা নিহতের স্বজনরাও পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘বিশৃঙ্খলা ও চরম অব্যবস্থাপনা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এ নজিরবিহীন ঘটনার পর ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা অবিলম্বে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করার (কম্যুটেশন) জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, টানা ৩০ বছর ধরে নির্জন কারাবাস এবং বিষাক্ত ইনজেকশন সহ্য করার পর পুনরায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে চরম নিষ্ঠুরতা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টেনেসির গভর্নর বিল লি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত থাকবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সি এক তরুণীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যার অপরাধে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে তিনি টেনেসির একমাত্র নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে কারাবন্দি রয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি।