✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২০, | ০১:২৩:৪৮ |যুক্তরাজ্যের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি কম্পিউটার সফটওয়্যারে চোখের পলকে ঘটে যাওয়া অতি ক্ষুদ্র একটি ত্রুটির কারণে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিপর্যয়। ব্রিটিশ ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেসের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সফটওয়্যারে একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোডিং ত্রুটি থাকার কারণে এটি ঘটে।
এই কারিগরি বিপর্যয়ের জের ধরে যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় বিমান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো। মাত্র কয়েক মিলি-সেকেন্ডের ব্যবধানে সচল হওয়া এই ছোট ত্রুটিটির কারণে ব্রিটেনের আকাশসীমায় ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ রাখতে হয় এবং পুরো পরিস্থিতি ও যাত্রীদের জট সামলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই দিনেরও বেশি সময় লেগে যায়। এই বড় ধরনের অচলবস্থার প্রভাব কেবল যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সুদূর মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় বিমান চলাচলেও তৈরি করেছে বিশাল বিশৃঙ্খলা।
ঘটনার শুরু হয় যুক্তরাজ্যজুড়ে ফ্লাইট চলাচলের মূল কাঠামোর দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল এয়ারস্পেস সিস্টেমের একটি সাধারণ কাজকে কেন্দ্র করে। সিস্টেমটিতে যখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্মীরা ম্যানুয়ালি একটি বিমানের আইডেন্টিফিকেশন কোডের অনুরোধ পাঠাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই কম্পিউটার সিস্টেমে অপেক্ষাকৃত বেশি অগ্রাধিকার সম্পন্ন আরেকটি বার্তা এসে পৌঁছায়। এতে কোড দেওয়ার সাধারণ অনুরোধটি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে পড়ে। তবে সেই জরুরি কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর পূর্বের স্থগিত হওয়া কাজটি পুনরায় সচল হওয়ার কথা থাকলেও, সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে সেটি সঠিকভাবে আর শুরু হতে পারেনি। এর ফলে ডাটা বা তথ্যে বৈষম্য দেখা দেয় এবং পরবর্তী ফ্লাইট সম্পর্কিত তথ্যসমূহ বিকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। পুরো কারিগরি বিষয়টি ঘটার পেছনে এক মিলি-সেকেন্ডেরও কম সময় লাগলেও তার ফল ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। বিমানে কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি যেন তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে ন্যাটস দ্রুত তাদের এয়ার ট্রাফিক নিয়মে কঠোর ফ্লাইট সীমাবদ্ধতা জারি করে এবং ডাটা রিলোড দিয়ে সিস্টেম পুনরায় চালু করতে বাধ্য হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে আরোপিত এই সাময়িক বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাজ্যের পুরো বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্কে অত্যন্ত দ্রুত নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। বিমান চলাচল সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিরিয়াম-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রথম দিনেই ১৭৪৬টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। এর পরদিনও অচলাবস্থার রেশ ধরে আরও প্রায় ৩৯৯টি নির্দেশিত যাত্রা বাতিল করা হয়, যার ফলে দুই দিনে সর্বমোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৪৫টিতে। বিমান পরিবহন খাতের প্রধান সংস্থা এয়ারলাইন্স ইউকে জানিয়েছে, আকস্মিক এই বিপর্যয়ে তিন লাখ ৩০ হাজারের বেশি যাত্রী মারাত্মক চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এর মধ্যে প্রায় দেড় লক্ষাধিক যাত্রী সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের শিকার হন এবং আরও ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে দীর্ঘ বিলম্বের মুখোমুখি হন। কেবল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকেই প্রায় সাড়ে ৪শ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল, যা তাদের প্রায় ৮৫ হাজার নিয়মিত যাত্রীকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়। ৬ ঘণ্টা পর সিস্টেম চালু করা হলেও বিমানের অবস্থান এলোমেলো হয়ে যাওয়া এবং ক্রু সদস্যদের স্থানান্তরের সমস্যায় পরপর দুই দিন এয়ারলাইন্সগুলোকে চরম বেগ পেতে হয়।
সূত্র: গালফ নিউজ