✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৭, | ০০:৫৪:০১ |অনেকের জীবনের পুরোটাই কেটে যায় সাফল্য ও সম্পদের পেছনে ছুটে। আবার কারও ক্ষেত্রে অভাবনীয় সেই সাফল্য ধরা দেয় খুব অল্প বয়সেই। আলেক্সান্ড্র ওয়াং তেমনই এক তরুণ, যিনি প্রথাগত পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশমান সাম্রাজ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। ফোর্বসের তথ্য মতে, ২৯ বছর বয়সী এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোসে জন্ম ওয়াংয়ের। চীনা অভিবাসী বাবা-মা দুজনেই ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের আবহেই কাটে তার শৈশব। গণিত ও কম্পিউটারে অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি কোরাতে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ভর্তি হন বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। তবে বাঁধাধরা পড়াশোনা তার পছন্দ ছিল না। তাই ১৯ বছর বয়সেই কলেজজীবনের ইতি টানেন।
২০১৬ সালে সহপ্রতিষ্ঠাতা লুসি গুওকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াং প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্কেল এআই’। প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ ছিল এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিপুল ডেটা মানুষের সাহায্যে বিন্যস্ত ও মূল্যায়ন করা। সহজ কথায় এআইয়ের বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে রসদ জোগানো। ওপেনএআই, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্ট থেকে শুরু করে মার্কিন পেন্টাগন পর্যন্ত তাদের ডেটা সিস্টেমের জন্য স্কেল এআইয়ের ওপর ভরসা করতে শুরু করে। ব্যবসার দ্রুত প্রসারের ফলে ২০২১ সালেই স্কেল এআইয়ের মূল্য দাঁড়ায় ৭৩০ কোটি ডলারে। আর ২০২২ সালে, মাত্র ২৫ বছর বয়সে, ওয়াং ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ স্বনির্ভর কোটিপতি হিসেবে নাম লেখান। বর্তমানে ওয়াং বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান কৌশল নির্ধারণকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদ। প্রথাগত শিক্ষার সীমানা ভেঙে চরম ঝুঁকি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তৈরি করা তার এই সাম্রাজ্য প্রমাণ করে, দূরদর্শিতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা থাকলে তরুণ বয়সেই পৃথিবী বদলে দেওয়া সম্ভব।