✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৬, | ১৪:০১:২৪ |ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জার্মানিতে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। ইসরায়েলের দুই কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি আয়োজন করেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। বৈঠকটি কোনো অংশগ্রহণকারী দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। সেন্টকম পরে এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, জার্মানিতে একটি নির্ধারিত সম্মেলনের অংশ হিসেবে আটটি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতারা এতে অংশ নেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে তারা আলোচনা করেন।
কুপার ছাড়াও বৈঠকে ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক বাহিনীর প্রধানরা অংশ নেন। ইসরায়েলের সঙ্গে যেসব আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সরাসরি মতবিনিময়ের বিরল সুযোগ তৈরি হয় এ বৈঠকে।
কুপার বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন বলে ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল, ইউএই ও বাহরাইনের মধ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর থেকে আরও বেড়েছে। এর কিছুদিন পর ইসরায়েলকে ইউরোপীয় কমান্ডের আওতা থেকে সরিয়ে সেন্টকমের দায়িত্বক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে সেন্টকমের অধীনে ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়, বিশেষ করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে।
চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ইউএই ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক এই দুই ধরনের অভিযানেই সহযোগিতা করেছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। ইউএইতে ইসরায়েল আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পাশাপাশি তা পরিচালনার জন্য কর্মী পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্যও ইউএইকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের দাবি।
যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে হুথিদের সৌদি আরববিরোধী হামলা জোরদারের সময়েই জার্মানিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হুথিরা ইয়েমেনে স্থলভাগে অগ্রগতি অর্জনের পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের দাবি, সৌদি আরব ও ইসরায়েল বর্তমানে সেন্টকমের সহায়তায় হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছে। ইউএইকে দেওয়া ইসরায়েলের সহায়তার আদলে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।