✕


ইয়েমেনে সংঘাতে বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৬, | ১৩:৫৮:৩৮ |

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির অভ্যন্তরে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজারো মানুষ বিপজ্জনক পথে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে নতুন করে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে এবং সীমিত সম্পদের ওপর চাপ বাড়বে। এতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ইয়েমেনের জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হবে।

ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক পরিবার খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে এবং সঙ্গে নিতে পেরেছে সামান্য কিছু জিনিসপত্র। আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা এখন তাদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন শিবিরের ওপরও চাপ বাড়ছে।

ইয়েমেনে থাকা ৬৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও সংঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের দ্রুত অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই নতুন করে বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে হুথিরা।

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখার কাছে নিজ গ্রাম হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর আয়েশা মুহাম্মদ নামের এক বাস্তুচ্যুত নারী তাঁর পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখে পালাতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, সন্তানরা নিজেদের বাড়িতে আটকা পড়ে আছে এবং তাদের বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। খাবারের সংকটে তারা শুধু ভাত খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।

হোদেইদা থেকে পালিয়ে আসা হুসেইন হায়দারা জানান, গোলাবর্ষণ ও স্নাইপার হামলার ভয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হঠাৎ করে পালিয়ে আসেন। তার ভাষায়, সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র নিয়েই দ্রুত পালাতে হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত চার দিনে ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছে। তাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

জিবুতিতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি সান্দ্রিন দেশামুর বলেন, দীর্ঘ ও কঠিন সমুদ্রযাত্রার পর মানুষগুলো সেখানে পৌঁছাচ্ছে। তাদের অনেকেই ক্লান্ত, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং সঙ্গে সামান্য কিছু জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছুই নেই। 

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই নৌপথটি বিকল্প রুট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..