✕


শিখদের অনুমতি থাকলেও পারবেন না মুসলিমরা

কলকাতা পুলিশের ৪৭ মুসলিম সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন নাকচ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৬, | ১৩:৩৭:৪৫ |

দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা কলকাতা পুলিশের ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের আবেদন নাকচ করেছে কর্তৃপক্ষ। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলতে হবে বলেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এ নির্দেশিকা ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

প্রশ্ন উঠেছে শিখ সম্প্রদায়ের পুলিশ সদস্যরা পারলে মুসলিমরা পারবে না কেন? ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সদস্যরা বড় চুল ও দাড়ি রেখেই কাজ করার অনুমতি পেলেও মুসলিম পুলিশ কর্মীদের ক্ষেত্রে দাড়ি কামিয়ে ফেলার নিয়মটি ভিন্ন। আর কলকাতা পুলিশে মুসলিম সদস্যদের ক্ষেত্রে এ আইন নিয়ে রয়েছে বেশ কড়াকড়ি। 

পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সদস্যদের পোশাকে অভিন্নতা বজায় রাখার কারণ দেখিয়ে এ নিয়ম পালনে জওর দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের ৪৭ মুসলিম সদস্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বাহিনীর প্রচলিত পোশাক ও সাজসজ্জার বিধি অনুযায়ী দাড়ি রাখার বিষয়ে কঠোরভাবে নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

যৌথ কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় ওই ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের দ্রুত আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তটি জানাতে এবং নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

কলকাতার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তে পুলিশের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই ধর্মীয় কারণে দাড়ি রেখেছেন। কয়েকজন কর্মকর্তা হজ পালনের পর সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে দাড়ি রেখেছিলেন।

এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সদস্যরা পাগড়ি, লম্বা চুল ও দাড়ি রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারলে মুসলিম পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেন প্রযোজ্য হবে না।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর বিধিমালা বা ম্যানুয়ালে সাধারণত বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এ নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের পোশাক ও সাজসজ্জা সংক্রান্ত এসব বিধির পেছনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন চেহারা, শৃঙ্খলা ও বাহিনীগত সামঞ্জস্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। দাড়ি রাখার ওপর বিধিনিষেধও সেই সময়ের প্রশাসনিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে টিকে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা পুলিশের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় পুরোনো এসব বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..