✕


ইয়েমেনে সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি হুতিদের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৬, | ১৩:৩২:০৫ |
ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটের আকাশসীমায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়। একই সময়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি হুতি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেন ও দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের ‘আগ্রাসনের’ জবাব দিতে গিয়ে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করেছে। মারিবের আকাশসীমায় সৌদি যুদ্ধবিমানটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনা করছিল। এ সময় হুতিদের তৈরি একটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষের সন্ধানে আসা আরও দুটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে হুতিদের সংঘর্ষ হয়। চলতি সপ্তাহে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের তাইজ, লাহজ, আল-জাওফ, হাজ্জাহ, মারিব, সাদাহ ও আল-বায়দা এলাকায় ৪৫০টির বেশি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সারি বলেন, ইয়েমেনের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসন বা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য সব উপায়’ ব্যবহার করবে তাদের বাহিনী।

অন্যদিকে মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি শনাক্ত করে। মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়।

সৌদি জোটের দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই পবিত্র নগরীটির দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলেও দাবি করে তারা।

তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মক্কার মতো পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করার অভিযোগ ‘মিথ্যা’। এ ধরনের দাবি আগেও করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হামলার অভিযোগে হুতিদের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। পবিত্র স্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

ওআইসির বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদে যেকোনো হামলা বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং এসব স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। পবিত্র স্থান, উপাসনালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামি মূল্যবোধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিরও পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা বজায় রাখতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ওআইসি।

এর আগে মঙ্গলবার হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। গত সপ্তাহেও সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল হুতিরা। আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সংঘাতের বিস্তারের পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করার পর দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আরব জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

এরপর থেকে ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..