✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৫, | ১৪:৪১:৩২ |অনলাইন জগতের ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ও অনলাইন গেমিংয়ে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইউরোপীয় কমিশনের একটি খসড়া নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’-এর আওতায় আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনো ভির্কুনেন এটি উপস্থাপন করবেন।
খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল সেবার সুযোগ থেকে শিশুরা যেন বঞ্চিত না হয়, তবে একই সঙ্গে তাদের শোষণ ও অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়াই প্রস্তাবিত নীতির মূল লক্ষ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সেবার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের মধ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের অনলাইন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। তিন থেকে ১২ বছর বয়সীদের অনলাইন ব্যবহার বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং তারা শুধু নিরাপদ ও শিশুবান্ধব সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
১৩ ও ১৪ বছর বয়সীরা বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সীমিত যোগাযোগের সুবিধাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে প্রাথমিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। আর ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা নিজেদের নামে স্বাধীনভাবে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি পাবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা অনলাইন গেম ডাউনলোডের ক্ষেত্রে বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ক্ষতিকর কনটেন্ট সহজে জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আসক্তি তৈরি করে এমন নকশা বা বৈশিষ্ট্য পরিহারের কথাও বলা হয়েছে।
নতুন আইন কার্যকর হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তদারকি ফি দিতে হতে পারে। সেই অর্থ আইনি ও তদারকি কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
তবে প্রস্তাবটি আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে ইইউভুক্ত দেশগুলো ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অনুমোদনের পরই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।