✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৩, | ১৩:৩৪:২৫ |কফি বার, ওয়াটারপার্ক, বিলাসবহুল শপিং মল, সমুদ্রসৈকত ও স্কি রিসোর্ট—উত্তর কোরিয়ার মতো একটি দেশের সঙ্গে এসব বিনোদনের বিষয় সাধারণত খুব একটা মেলে না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিনোদন ও ভোগের সুযোগ বাড়াতে একের পর এক নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছেন দেশটির শাসক কিম জং উন। নাগরিকদের অর্থ ব্যয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি সেই ব্যয়কে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য ও বিনোদনব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসাই তার এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রয়টার্সের বাণিজ্য পরিসংখ্যান, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে যাওয়া পাঁচজন দর্শনার্থী ও দুজন উত্তর কোরীয় পলাতকের সাক্ষাৎকার পর্যালোচনায় দেশটির এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে।
ভোগব্যয়ের নতুন দিগন্ত
চীনের শুল্ক পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর কোরিয়ায় ব্যক্তিগত ভোগ ও বিনোদনসংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত এক দশকে দেশটিতে ম্যাসাজের সরঞ্জাম আমদানি প্রায় ৪০ গুণ বেড়েছে। ট্রেডমিলের চালান বেড়েছে ৬০০ শতাংশেরও বেশি। একই সময়ে পিয়ানো, ঘড়ি এবং বিনোদন পার্কের সরঞ্জামও উত্তর কোরিয়ায় ঢুকছে।
দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিলাসবহুল শপিং মল, সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট ও স্কি গন্তব্যও তৈরি হচ্ছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি কেবল নাগরিকদের বিলাসী জীবনযাপনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয় নয়। ব্যক্তিগত ব্যয়কে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত বিনোদন ও খুচরা বাজারের মাধ্যমে পরিচালিত করে সরকার অনানুষ্ঠানিক বাজারকে দুর্বল করার পাশাপাশি নতুন রাজস্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি করতে চাইছে।
সিউলভিত্তিক হুন্দাই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক কাং সিয়ং-হিয়ন বলেন, কিমের এই কৌশলের মাধ্যমে বাজারে কেন্দ্রীভূত উৎপাদন, পণ্য বিতরণ এবং মূলধনের প্রবাহকে রাষ্ট্র পরিচালিত একটি আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
পিয়ংইয়ংয়ে বাড়ছে বিলাসী জীবন
রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। গত বছর চালু হওয়া রাংনাং অ্যায়েগুক কুমগাং সার্ভিস কমপ্লেক্স নামে একটি বিলাসবহুল শপিং মলে মানুষ ক্যাপুচিনো পান করার পাশাপাশি গৃহস্থালি পণ্য কিনছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এবং রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।
এ ছাড়া দুই বছর আগে চালু হওয়া হাওয়াসং তাইদংগাং বিয়ার রেস্তোরাঁটিও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। গত এপ্রিলে কিম তার মেয়ে কিম জু এ-কে নিয়ে একটি নতুন পোষা প্রাণীর দোকান পরিদর্শন করেন। সেখানে বিড়াল ও কুকুরের বাচ্চার প্রতি তার মেয়ের আগ্রহের কথাও উঠে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের নতুন আবাসিক এলাকাগুলোর একটিতে গেমিং আর্কেড, গাড়ির ডিলারশিপ এবং বারবিকিউ রেস্তোরাঁও রয়েছে। ওই রেস্তোরাঁয় স্যামন বেলি ও ফোয়া গ্রা বার্গারের মতো বিলাসী খাবার পরিবেশন করা হয়।
পর্যটন ও বিনোদনে বড় বিনিয়োগ
২০২২ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পর্যটন, অবসর ও সাংস্কৃতিক জীবনের বিষয়ে প্রতিবেদন বাড়তে শুরু করেছে। রয়টার্স এক হাজার ২০০টির বেশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমন প্রবণতা দেখতে পেয়েছে। এর মধ্যে নতুন আকর্ষণ তৈরি এবং পুরোনো বিনোদনকেন্দ্র সংস্কারের খবরও রয়েছে।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে চালু করা হয় ওয়নসান কালমা সমুদ্রসৈকত পর্যটন এলাকা। চীনের সীমান্তবর্তী সামজিয়ন এলাকায় গত ডিসেম্বরে পাঁচটি বিলাসবহুল হোটেল চালু হয়েছে। সেখানে একটি স্কি রিসোর্টও নির্মাণাধীন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ওয়াটারপার্ক এবং একটি অশ্বারোহী ক্লাব নির্মাণের কাজ চলছে। আগস্টে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহের মধ্যেও ওয়নসান সৈকত রিসোর্টে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় দর্শনার্থীকে দেখা যায়।
পর্যটন সংস্থা ইয়ং পাইওনিয়ার ট্যুরসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রোয়ান বিয়ার্ড বলেন, তার এক স্থানীয় পরিচিত জানিয়েছিলেন, পরিবার নিয়ে ওয়নসানে গেলে এত বেশি ভিড় ছিল যে অনেককে বাধ্য হয়ে টুইন রুম ভাগাভাগি করে থাকতে হয়েছে। চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ওয়নসান কালমা রিসোর্টে তিন লাখের বেশি স্থানীয় পর্যটক গিয়েছিলেন।
গড়ে উঠছে নতুন বিনোদন কমপ্লেক্স
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাসন শহরেও বিনোদনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেখানে সনা, সুইমিংপুল, ভিডিও গেম আর্কেড এবং স্পোর্টস সেন্টার গড়ে উঠেছে বলে এক চীনা ব্যবসায়ী রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
কিমের আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাইব্রেরি, রেস্তোরাঁ ও সিনেমা হলসহ বিনোদন কমপ্লেক্স তৈরি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অন্তত দুই ডজন কমপ্লেক্স ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে অথবা নির্মাণাধীন রয়েছে।
দোকানে বিদেশি ব্র্যান্ড
উত্তর কোরিয়ায় পাওয়া পণ্যের পরিসরও বেড়েছে বলে সম্প্রতি দেশটি সফর করা তিনজন দর্শনার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছেন। ২০২৩ সালে চালু হওয়া রিউগিয়ং গোল্ডেন প্লাজায় ঘড়ির দোকানে রোলেক্স, ওমেগা ও হারবেলিনের মতো ব্র্যান্ডের লোগো দেখা গেছে। একটি ইলেকট্রনিকস দোকানে হুয়াওয়ের ব্র্যান্ডিংও দেখা যায়। এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে উঠে এসেছে এবং রয়টার্স সেগুলো যাচাই করেছে।
তবে রোলেক্স ও হুয়াওয়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। ওমেগা ও হারবেলিন জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় তাদের কোনো অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতা বা পরিবেশক নেই।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা চীনের আলিপের মতো দেখতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা করছেন বলেও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পিয়ংইয়ং সফর করা রোয়ান বিয়ার্ড জানান, বিক্রির জন্য থাকা প্রায় সব ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে দেখা গেছে।
চীন থেকে বাড়ছে বিনোদনসামগ্রী আমদানি
চীনের বাণিজ্য পরিসংখ্যানেও উত্তর কোরিয়ার এই ভোগ ও বিনোদনমুখী পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। দেশটিতে পিয়ানো, ঘড়ি এবং বিভিন্ন ধরনের বিনোদন পার্কের সরঞ্জাম—যেমন নাগরদোলা, রোলার কোস্টার ও ওয়াটার স্লাইড—আমদানি বাড়ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত চীন থেকে উত্তর কোরিয়া তিন মেট্রিক টনের বেশি বাম্পার কার আমদানি করেছে, যার মূল্য ২০ হাজার ডলারেরও বেশি।
করোনা মহামারির পর চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যও সামগ্রিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব পিয়ংইয়ংয়ের গাড়ি সংস্কৃতিতেও দেখা যাচ্ছে; চীন থেকে গাড়ি আমদানির কারণে রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অনানুষ্ঠানিক বাজারকে চাপে ফেলার কৌশল
১৯৯০-এর দশকের দুর্ভিক্ষের পর উত্তর কোরিয়ায় আধা-আইনি বাজার বা অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যব্যবস্থা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। রাষ্ট্র তখন নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতে পারছিল না।
সিউলভিত্তিক পিস ইকোনমি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক জুং চ্যাং-হিয়নের মতে, চলতি শতকের শুরুর দিকে এসব বাজার বন্ধ করার চেষ্টা করেও সরকার ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ, সেগুলোর বিকল্প হিসেবে পণ্য বিতরণের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রাষ্ট্রের হাতে ছিল না।
এখন কিমের ভোগব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ সেই পুরোনো সমস্যার নতুন সমাধান হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক অবকাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে তা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত বা অনানুষ্ঠানিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে।
২০২৩ সালে পিয়ংইয়ং এমন একটি আইনও পাস করে, যার মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংক ও দোকানকে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ব্যয়ের ওপর সরকারি নজরদারি আরও সহজ হতে পারে।
সবার জন্য নয় এই নতুন ভোগের সুযোগ
তবে উত্তর কোরিয়ার এই ভোগবিস্ফোরণের সুফল সবাই পাচ্ছেন না। দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বছর পালিয়ে যাওয়া পিয়ংইয়ংয়ের সাবেক চালক ইয়াং ইল-চেওল বলেন, তার মতো অনেক মানুষের নতুন রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজধানীতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ব্যাপক হলেও অনেক উত্তর কোরীয় সরকারকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না এবং নগদ অর্থে লেনদেন করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি ও সমাজবিষয়ক অধ্যাপক রুডিগার ফ্রাঙ্কের মতে, উত্তর কোরিয়ায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষের একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণি রয়েছে, যাদের হাতে সঞ্চয় আছে কিন্তু সেই অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত।
তার মতে, কিমের ভোগব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগের একটি উদ্দেশ্য হলো মানুষের হতাশা কমানো, চালের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের চাপ কমানো এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো।
অর্থনীতির নতুন উৎস
উত্তর কোরিয়ার এই বিনোদন ও ভোগব্যবস্থার পেছনে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের বিনোদন খাতের অর্থায়নে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি, ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন এবং কয়লা ও অন্যান্য খনিজ রপ্তানি থেকে আসা অর্থ ভূমিকা রাখছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার-অর্থায়িত ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা থেকে দেশটি সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে তাদের অনুমান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের কর্মকর্তারা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বহুবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির যোগসূত্রের কথা বলেছেন।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অর্থনীতি বাড়ছে
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিলাসপণ্য, জ্বালানি ও খনিজ বাণিজ্যের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে, যার অন্যতম উদ্দেশ্য দেশটির অস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা।
তবুও দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি টানা তৃতীয় বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের বেশি হওয়ার ঘটনা।
এমনকি গত মে মাসে পিয়ংইয়ং সফর শেষে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণানও উত্তর কোরিয়ার রাজধানীর পরিবর্তনকে ‘উল্লেখযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, পিয়ংইয়ংকে পূর্ব এশিয়ার যেকোনো আধুনিক শহরের মতো মনে হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রয়োজন কমছে?
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে ভোগ ও বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ানোর ফলে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রণোদনাও কমতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও উত্তর কোরিয়া আলোচনায় ফেরার বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
চীন জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পাশাপাশি তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বজায় রাখছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, কিম জং উনের ভোগ ও বিনোদনকেন্দ্রিক উদ্যোগ উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের শুধু আনন্দ দেওয়াই নয়; বরং তাদের হাতে থাকা অর্থকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা এবং অনানুষ্ঠানিক বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।
রুডিগার ফ্রাঙ্কের ভাষায়, ‘ভোগব্যয় সময় কিনে দেয়। কিন্তু চিরদিনের জন্য আনুগত্য কিনে দেয় না।’