✕


অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট

বছরে ৪,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১০, | ০১:১০:৪৬ |
প্রতিদিন অটোরিকশা চার্জিংয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বাড়ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে দেশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানান, সারা দেশে ৩ হাজার ৩০০টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট আছে। শুধু ঢাকাতেই আছে ৪৮ হাজারের বেশি। আর এসব পয়েন্টে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চার্জ দিতে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ার ফলে স্থানীয় বিতরণব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আবাসিক সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং ট্রান্সফরমারের ওপর বাড়তি লোড তৈরির ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়ছে। আবাসিক এলাকার বিদ্যুতের লাইন, গ্যারেজ মালিকের বিদ্যুতের লাইন এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে চালকরা তা যানগুলোর ব্যাটারি রিচার্জ করতে ব্যবহার করছেন। আবার ঢাকা এবং তার আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় এ গাড়িগুলো চার্জ দিতে আলাদা ঘর বা দোকান তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ যানগুলো শুধু বিদ্যুতের অপচয় করছে না, এগুলো পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য ৪-৫টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। আর প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৮০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে ৫ থেকে ৬ ইউনিট (দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা) বিদ্যুৎ খরচ হয়। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শহর ও গ্রামে যেহেতু এ যানগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এজন্য অফ পিক আওয়ারে যাতে এগুলো চার্জ করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এগুলোকে সোলার চার্জিং সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুতের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনব্যবস্থা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..