✕


ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা নেই, মার্কিন কর্মকর্তা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৭, | ১১:০৫:৪৭ |

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি অর্জনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা। স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পারমাণবিক চুক্তিটি হয়তো নাও হতে পারে। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চুক্তির পরিবর্তে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর পথ বেছে নিতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়ে ইরানের আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে ‘এবিসি দিস উইক’ অনুষ্ঠানে রাইট বলেন, এর অর্থ কেবল তাদের সেই সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়াও হতে পারে।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র এমন সব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেছিল। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা কেবল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিই গড়ে তুলছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের সহ-উপস্থাপক মার্থা র‍্যাডাটজ যখন জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কি কূটনীতির পরিবর্তে ক্রমাগত বোমা হামলার পথ বেছে নেবে কি না, তখন রাইট তেহরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রাইট বলেন, তাদের আর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই। আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনছি এবং শেষ পর্যন্ত, যদি তারা তা তৈরি করেও ফেলে, তবে তা নিক্ষেপ বা প্রয়োগ করার সক্ষমতাও নষ্ট করছি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদের তদারককারী সংস্থার প্রধান ও সাবেক এই তেল-শিল্প নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশটির সাথে একটি চুক্তি হওয়া সম্ভব হতে পারে। তিনি বলেন, ইরানের পরবর্তী প্রশাসনের জন্য হয়তো কোনো চুক্তি অপেক্ষা করছে। বিষয়টি আসলে আমাদের জানা নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তার মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং তা আরও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটি ভেস্তে যাওয়ার পর হামলাগুলো প্রথমে থেমে গিয়েছিল, কিন্তু পরে তা আবার শুরু হয়। পাশাপাশি ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের ঘটনাও ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক তীব্র গোলাগুলির ঘটনা সত্ত্বেও, হোয়াইট হাউস তাদের প্রকাশ্য মন্তব্যে এই সংঘাতকে খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান সংঘাতকে ‘সামান্য বিষয়’ বলে এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন, সংঘাতের তীব্রতা কমে এসেছে। এ সময় তিনি দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হামলার বিষয়টিও হালকাভাবে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে।

এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স সংঘাত সম্পর্কে বলেন,  তিনি এটিকে ‘যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করবেন না এবং বর্তমানে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি চলছে না। সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ না দিয়েই রাইট রবিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কাজটি সম্পন্ন করবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অন্যান্য দেশও সহায়তা করবে।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মিত্রদের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করব। আমার মনে হয়, আপনারা দেখবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশও এই প্রচেষ্টায় শামিল হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..