✕


বিশ্বে কমছে জন্মহার বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৭, | ০১:২০:৩৮ |

বিশ্ব জনসংখ্যার চিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। নথিভুক্ত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘায়ুর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে জন্মহার হ্রাসের কারণে জনসংখ্যার এই কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুমারি ব্যুরোর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার কমা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলেই এই জনমিতিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানব জনসংখ্যার এই বিশাল রূপান্তর আগামী দিনে সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও জাপান সবার আগে জনসংখ্যা হ্রাস এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধির এই প্রবণতার মুখোমুখি হয়েছিল। রাশিয়ায় ১৯৯৬ সালে এবং জাপানে ২০০৮ সালে জনসংখ্যা কমতে শুরু করে। যদিও পরে অন্যান্য দেশও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে আগামী কয়েক দশক ধরে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে বলেই প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জনমিতির এই পরিবর্তনের পেছনে মূলত দুটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা কাজ করেছে জন্মহার হ্রাস এবং মানুষের আয়ু বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে সন্তান জন্মদানের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা, দেরিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবার পরিকল্পনা উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে ধনী ও উন্নয়নশীল উভয় দেশেই জন্মহার তীব্রভাবে কমেছে। এর বিপরীতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পুষ্টি, স্যানিটেশন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতির ফলে আগের

প্রজন্মের তুলনায় মানুষ এখন অনেক বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকছে।

দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির বিষয়টি মূলত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের বেশ কিছু ধনী দেশের সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে বর্তমানে এই প্রবণতা এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল অঞ্চলেও দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বার্ধক্য এমনিতেই কষ্টদায়ক হতে পারে, তবে তাদের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন যারা বার্ধক্যকালীন দারিদ্র্যের শিকার হন এবং পরিচর্যার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল থাকেন। পরিবারগুলো ছোট হয়ে আসায় এবং সন্তানহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এটি একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রবীণরা যাতে দৈনন্দিন জীবনের একটি বৃহত্তর অংশ হয়ে উঠতে পারেন, সেজন্য সরকারকে দ্রুত তাদের অর্থনৈতিক নীতি, আবাসন কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যসেবা মডেলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..