✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৪, | ১৭:০১:২৯ |জাপানের রাজধানী টোকিওর কাছের চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। প্রবল বর্ষণে অঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ২০ হাজারের বেশি পরিবার। এ ছাড়া পরিবহনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে রাতভর আটকা পড়েন প্রায় সাত হাজার যাত্রী।
জাপানি কর্তৃপক্ষ এই বৃষ্টিপাতকে নজিরবিহীন বলে আখ্যা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে লেভেল ৫ জরুরি সতর্কতা জারি করা হলেও শুক্রবার সকালে তা কমিয়ে লেভেল ৪ করা হয়েছে। তবে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো রয়েছে বলে সতর্ক করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি ও আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। বন্যায় প্লাবিত একটি সড়কে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে তিনি মারা যান। আরও দুজন রাস্তায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে পরে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
চিবা প্রিফেকচারে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, আগস্ট মাসে ওই অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় তিন গুণ। একই সঙ্গে এটি জাপানে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাত।
চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। অতীতে তিনি অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তার কখনো হয়নি।
গভর্নর কুমাগাই বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবেশ করে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এর ফলেই সর্বশেষ এই প্রবল বর্ষণ হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রবল বর্ষণে এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার এক লাখেরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও।
বৃষ্টিপাত ও পরিবহনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় নারিতা বিমানবন্দরেও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। প্রায় সাত হাজার যাত্রী সেখানে রাতভর আটকা ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীরা আটকা পড়েন। চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে রাত কাটান প্রায় এক হাজার ৮০০ মানুষ।
নারিতা বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সব ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে। জাপানের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে। তবে কোনো ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা নেই।
চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকেকে বলেন, বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বিদ্যুৎ না থাকায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি তার ব্যবসা খুলতে পারবেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
জাপানে এই প্রবল বৃষ্টিপাতের আগে চলতি সপ্তাহে দেশ ও এর প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো একের পর এক ঝড়ের কবলে পড়ে। জাপান, ফিলিপাইন ও চীনে একই সময়ে ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু নামে তিনটি ঝড় আঘাত হানে।
ডলফিন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসে। এতে কয়েক হাজার ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, গাছপালা উপড়ে যায় এবং ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কায় আবারও বেশির ভাগ এলাকায় স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সপ্তাহান্তে চীনের পূর্বাঞ্চলে ডলফিন আঘাত হানার আগে দেশটির কর্তৃপক্ষ ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ছিল ডলফিন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাপানের চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন পাঁচজন। বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় সেখানে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি