✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৪, | ১৬:৪৭:১৩ |চীনের ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্ক বেআইনিভাবে এড়াতে সহায়তা করার দায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৪০টিরও বেশি দেশকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন সরকারি কোষাগার প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ দেশটির।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৪০টিরও বেশি দেশ এমন এক গোপন লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত, যা ভুল লেবেল বা মিথ্যা পরিচয়ের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য প্রবেশে সহায়তা করছে।
‘অফিস অফ ট্রেড অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং পলিসি’-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিশাল ট্রান্সশিপমেন্ট কেলেঙ্কারি’ বা পণ্য পুনরপ্তানির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির এই প্রক্রিয়ায় চীনকে সহায়তাকারী প্রধান দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, কানাডা, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
বাণিজ্য নীতি বিষয়ক ওই দপ্তরটি আরও জানিয়েছে,ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও এই নেটওয়ার্কে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্রান্সশিপমেন্ট বা পণ্য পুনরপ্তানি প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব উৎপাদন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, অ্যালুমিনিয়াম পণ্য এবং মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ।
ট্রাম্প কর্তৃক নিযুক্ত পিটার নাভারোর নেতৃত্বাধীন ওই দপ্তরটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এই বিশাল ট্রান্সশিপমেন্ট কেলেঙ্কারির কারণে হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি ডলার আসলে আমেরিকান শ্রমিক, উৎপাদক এবং করদাতাদের পকেট থেকে চুরি করা অর্থের শামিল।
সাধারণ অফিস সময়ের বাইরে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানানো হলে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। প্রতিবেদনে যেসব দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত এর দাবির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ট্রান্সশিপমেন্ট বা পণ্য পুনরপ্তানিতে সহায়তাকারী দেশগুলোকে ‘সতর্ক করা হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে সীমান্ত কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শিপমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত একত্রিত করছে। বাণিজ্য বিষয়ক দপ্তর এ কথা জানিয়েছে, বিশ্বের কাছে বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট। অবৈধ ও শনাক্ত-অযোগ্য পণ্য স্থানান্তর বা ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’-এর দিন শেষ হয়ে গেছে। কাগজ-কলমের সাধারণ কারসাজি বা প্রক্রিয়া হিসেবে যা একসময় মনে হতো, যেমন পণ্যের লেবেল বা মোড়ক পরিবর্তন কিংবা নতুন করে ইনভয়েস বা চালান তৈরি। তা এখন অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সদিচ্ছার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প একগুচ্ছ সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বাণিজ্যিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি এমন ডজন ডজন দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টি উপেক্ষা করার দায়ে অভিযুক্ত।
নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও কলোরাডোসহ ডেমোক্র্যাট-শাসিত ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য এই শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো ট্রাম্পের সেই ব্যাপকভিত্তিক ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক পুনরায় আরোপের একটি অজুহাত মাত্র। শুল্ক ব্যবস্থাটি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক অমিতেন্দু পালিত হোয়াইট হাউসের এই প্রতিবেদনকে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন এক নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যার লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশকে মার্কিন পণ্যের জন্য বাজারের সুযোগ বাড়াতে বাধ্য করা।
আল জাজিরাকে পালিত বলেন, ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক ব্যবস্থাটি অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একদিকে যেমন তাদের বিপুল অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে, তেমনি তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই তারা এখন বাজারের সুযোগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি ‘উদ্ভাবনী’ বা নতুন নতুন কৌশল খুঁজছে। জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে বিভিন্ন দেশের ওপর এর আগে ‘সেকশন ৩০১’ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা।
সূত্র: আলজাজিরা।